১০-এর মধ্যে ৭ সাংসদই নেই! তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ‘আপ’, দিল্লিতে মোদী-ম্যাজিক না কি ডোভালের চাল?

জাতীয় রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থেই এক মহাপ্রলয় ঘটে গেল। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (AAP) কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। আজ বিকেলে দিল্লির রাজনৈতিক মঞ্চে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা গেল— বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা নীতিন গড়করির হাত থেকে লাড্ডু খেয়ে একে একে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তাল। তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন হরভজন সিং ও স্বাতী মালিওয়াল সহ মোট ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ।

সাংসদ সংখ্যার হিসেবে বড় চমক: রাঘব চাড্ডা আজ এক সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন যে, রাজ্যসভায় আপ-এর মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জন (অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ) একসঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, এই পদক্ষেপকে ‘মার্জার’ বা সংযুক্তিকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার ফলে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার আইনি ভয় থাকছে না।

কেজরিওয়ালের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া: নিজের অতি বিশ্বস্ত সঙ্গীদের এই ভোলবদলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি সরাসরি একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে দেগে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি বলেন, “বিজেপি আবারও পাঞ্জাব এবং দেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করল। অর্থের লালসা আর এজেন্সির ভয় দেখিয়ে আমাদের দল ভাঙা হচ্ছে।” অন্যদিকে সঞ্জয় সিং একে বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’-এর চূড়ান্ত রূপ বলে অভিহিত করেছেন।

কেন এই গণ-ইস্তফা? নীতিন গড়করির বাসভবনে লাড্ডু খাওয়ার পর রাঘব চাড্ডা বলেন, “আমি গত ১৫ বছর আমার রক্ত-ঘাম দিয়ে এই দল গড়েছিলাম। কিন্তু আজ এই দল তার আদর্শ হারিয়ে ফেলেছে। আমি ভুল দলে থাকা একজন সঠিক লোক হয়ে পড়েছিলাম। তাই আজ মানুষের স্বার্থে বিজেপিতে যোগ দিলাম।” সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তালও দলের অন্দরের দুর্নীতি ও একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।

রাজনৈতিক ফলাফল: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই ভাঙন আম আদমি পার্টিকে কার্যত খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করাল। দিল্লি এবং পাঞ্জাবের রাজনীতিতে বিজেপির দাপট যে এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গেল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র কফিনে শেষ পেরেক হতে পারে।