নজরে কি ২০২৬? ‘ধুরন্ধর’ ডোভালের চালে কুপোকাত বিরোধীরা! মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে বড় বার্তা

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল মানেই যেন এক রহস্যময় দাবার চাল। এবার সেই ডোভালই মুখোমুখি বসলেন দেশের একঝাঁক বিশিষ্ট মুসলিম বুদ্ধিজীবী এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে। বৈঠকের মূল মন্ত্র ছিল একটাই— “একসঙ্গেই এগব, নয়তো ডুবব।” পর্দার আড়ালে হওয়া এই বৈঠকের খবর চাউর হতেই দেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল তোলপাড়।

বৈঠকের আসল নির্যাস: সুফি সন্ত থেকে শুরু করে প্রাক্তন আমলা এবং উচ্চপদস্থ মুসলিম শিক্ষাবিদ— কে ছিলেন না সেই তালিকায়! সূত্রের খবর, বৈঠকে ডোভাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং উন্নয়নের স্বার্থে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলকে এক ছাতার তলায় আসতে হবে। উগ্রবাদ এবং বাইরের শক্তির প্ররোচনা থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে মুসলিম সমাজের বিশিষ্টদের বড় ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

কেন এই হঠাৎ ‘বন্ধুত্ব’? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের গভীর কোনো কৌশল। বিশেষ করে ২০২৬-এর আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে এই মুসলিম আউটরিচ প্রোগ্রাম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ধর্মীয় মেরুকরণের তকমা মুছতেই এই ‘ধুরন্ধর’ চাল চালছে গেরুয়া শিবির।

কী বার্তা গেল সংখ্যালঘু সমাজে? বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের একাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ডোভালের প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে কট্টরপন্থা দমন এবং সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নে ডোভালের গলায় শোনা গিয়েছে কড়া এবং স্পষ্ট সুর। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ভারতের বিশ্বশক্তি হওয়ার পথে সবথেকে বড় কাঁটা।

উপসংহার: অজিত ডোভালের এই বৈঠক কি কেবলই নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন? রাজধানী দিল্লির অলিন্দে এখন এটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। তবে ডোভালের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ যে বিরোধীদের চিন্তায় ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।