ভোটার তালিকা থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ? সুপ্রিম কোর্টে লড়াইয়ের বড় দাবি তৃণমূল নেত্রীর!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটতেই রণংদেহি মেজাজে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার হাওড়া ও বারুইপুরের সভা থেকে একদিকে যেমন বিজেপিকে ‘নির্মূল’ করার ডাক দিলেন, তেমনই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ শানালেন তিনি।

“এসআইআর-এর নামে অত্যাচার”, ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক মমতা প্রথম দফার ভোট মিটে যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর (SIR) দোহাই দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “১ কোটি ২০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করে ৩২ লক্ষ নাম ফিরিয়ে এনেছি। বাকিদের নামও তুলব। একমাত্র তৃণমূলই আপনাদের জন্য লড়েছে।” এদিন গ্রাম বাংলায় রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “মোদিবাবু, তোমার বিরুদ্ধে এই ভোটটা।”

ভোটের লাইনে মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন হিংসা ও মৃত্যু নিয়ে এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কাল ভোটের লাইনে চারজন মারা গিয়েছেন এবং এসআইআর সংক্রান্ত জটিলতায় প্রায় ৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিরোধীদের দায়ী করে তিনি বলেন, “মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।”

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের পাল্টা এদিন বারুইপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী কথা লেখা হচ্ছে এবং অরাজকতা চলছে। এর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:

  • “আমাদের ছাত্রছাত্রী এবং যুবসমাজ আমাদের গর্ব।”

  • “প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।”

  • “আপনি কি জানেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বরে আছে? এক পয়সাও কি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছেন?

নির্বাচনী বার্তা: “বিজেপি চোখে দেখবে সরষের ফুল” প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোট মিটে যাওয়ার পর তৃণমূলনেত্রী দাবি করেন, মানুষ নিজের অধিকার রক্ষা করতেই জোড়াফুলে ভোট দিয়েছেন। বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত দাবি করে তিনি স্লোগান তোলেন, “সব জোড়াফুল তৃণমূল, বিজেপি চোখে দেখবে সরষের ফুল।”

প্রথম দফার রেকর্ড ভোটদান এবং যুযুধান দুই শিবিরের এই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আগামী দফাগুলোর লড়াইকে যে আরও তীব্র করবে, তা বলাই বাহুল্য।