ফ্লাইং স্কোয়াডের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! ১০০০ কোটির মদ-টাকা উদ্ধার, ভোটের মুখে কড়া পাহারা বাংলা-তামিল সীমান্তে!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণডঙ্কা বাজার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের নজরদারি এবার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলা ও তামিলনাড়ু—এই দুই রাজ্য মিলিয়ে গত কয়েক মাসে নগদ টাকা, মদ এবং মাদকসহ মোট ১,০৭২ কোটি টাকারও বেশি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে কমিশন। শান্তিপূর্ণ ও প্রলোভনহীন নির্বাচন নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।

বাংলার চেয়ে তামিলনাড়ু এগিয়ে নগদে, মদ উদ্ধারে শীর্ষেই বাংলা:

কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্পদের লড়াইয়ে একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে এই দুই রাজ্য।

  • পশ্চিমবঙ্গ: মোট ৪৭২.৮৯ কোটি টাকার সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ লক্ষ লিটারেরও বেশি মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (মূল্য ১০২.৪৫ কোটি টাকা), যা দুই রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ।

  • তামিলনাড়ু: বাজেয়াপ্ত হওয়া মোট সম্পদের মূল্য ৫৯৯.২৪ কোটি টাকা। তবে এখানে নগদ অর্থ উদ্ধারের পরিমাণ চোখ কপালে তোলার মতো—প্রায় ১০০.১৯ কোটি টাকা।

এক নজরে দুই রাজ্যের সম্মিলিত হিসেব:

সামগ্রী পরিমাণ / মূল্য
মোট নগদ টাকা ১২৭.৬৭ কোটি টাকা
বাজেয়াপ্ত মদ ৪০.৪৯ লক্ষ লিটার (১০৬.৩ কোটি টাকা)
মাদকদ্রব্য ১৮৪.৮৩ কোটি টাকা
মূল্যবান ধাতু (সোনা-রূপো) ২১৫.১৯ কোটি টাকা
অন্যান্য উপহার সামগ্রী ৪৩৭.৯৭ কোটি টাকা

কমিশনের ‘১০০ মিনিটের’ চ্যালেঞ্জ:

অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে বাংলায় ২,৭২৮টি এবং তামিলনাড়ুতে ২,২৮৩টি ‘ফ্লাইং স্কোয়াড’ (FST) ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকশন নিতে হবে এই দলগুলিকে। এর পাশাপাশি কাজ করছে ৫,৩৬৩টি স্ট্যাটিক সার্ভেইল্যান্স টিম (SST), যারা বিভিন্ন চেকপয়েন্টে ঝটিকা তল্লাশি চালাচ্ছে।

শান্তিপূর্ণ ভোটের ডাক:

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সহিংসতা বা প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার কোনও চেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্য সচিব ও পুলিশ প্রধানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর কমিশন জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আরও কঠোরভাবে আদর্শ আচরণবিধি পালন করবে।

ভোটের খরচ ও পেশিশক্তির দাপট রুখতে কমিশনের এই ‘ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল’ পাহারা আগামী দফার ভোটগুলিতে আরও তীব্র হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।