ভোটের ময়দানে ‘দাগি’ প্রার্থীদের মেলা! বিজেপি-তৃণমূল থেকে বাম-কংগ্রেস, কার পাল্লা ভারী?

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন কি কেবল গণতন্ত্রের উৎসব, নাকি অপরাধ আর বিত্তের আস্ফালন? অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ সাধারণ মানুষের। ফৌজদারি মামলা থেকে শুরু করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি— সব মিলিয়ে প্রার্থীদের ‘বায়োডাটা’য় চমকের শেষ নেই।
ফৌজদারি মামলার পাহাড়: শীর্ষে বিজেপি
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, প্রধান দলগুলোর মধ্যে ফৌজদারি মামলার বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে গেরুয়া শিবির।
-
বিজেপি: ২৯৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৮ জন (৬৪%) গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত।
-
তৃণমূল কংগ্রেস: ২৯০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা আছে, যার মধ্যে ৯০ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।
-
সিপিআই(এম) ও কংগ্রেস: সিপিআইএম-এর ৯৪ জন এবং কংগ্রেসের ৭৬ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা ঝুলছে।
নারীঘটিত অপরাধ ও খুনের অভিযোগ
রিপোর্টে আরও ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে। ১৯২ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নারীঘটিত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো জঘন্য মামলা চলছে। এছাড়া ৩৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের এবং ১৮৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রয়েছে।
কোটিপতিদের দাপট: গতবারের চেয়ে ১৮% বৃদ্ধি
এবারের নির্বাচনে অর্থের খেলা আরও বেড়েছে। মোট প্রার্থীদের ২২ শতাংশ অর্থাৎ ৬২৯ জন কোটিপতি।
-
তৃণমূল কংগ্রেস: কোটিপতি প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে শাসক দল, তাদের ২০৯ জন (৭২%) প্রার্থীর সম্পদ ১ কোটির উপরে।
-
বিজেপি: ১৪৩ জন (৪৯%) প্রার্থী কোটিপতি।
-
প্রার্থীদের গড় সম্পদের পরিমাণ গতবারের ৯১.৬৯ লক্ষ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.২৭ কোটি টাকা।
ব্যতিক্রমী শূন্য সম্পদ: যখন কোটিপতিদের ভিড়, তখন ৪ জন প্রার্থী নিজেদের ‘শূন্য’ সম্পদের কথা জানিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বেহালা পশ্চিমের নির্দল প্রার্থী মৌসুমী ঘোষ এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের সহজদী পারভিন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সের সমীকরণ
-
শিক্ষা: ৪৬ শতাংশ প্রার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে ৪৯ শতাংশের। ৩০ জন প্রার্থী নিরক্ষর বলেও জানা গেছে।
-
বয়স: নির্বাচনে অভিজ্ঞদেরই জয়জয়কার। ৫৪ শতাংশ প্রার্থীর বয়স ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। ৮১ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন।
-
নারী প্রতিনিধিত্ব: এবার মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা গতবারের চেয়ে বেড়ে ৩৮৫ জন (১৩%) হয়েছে, যা গতবার ছিল ২৪০।