ভোটের আগে মোটরবাইকে ‘পিলিয়ন রাইডিং’ নিষিদ্ধ! আদালতের দ্বারস্থ আইনজীবী, আগামিকালই বড় রায়?

ভোটের মুখে কি চাকা থমকে যাবে বাইকের? নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চরম বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাইক মিছিল বা পিলিয়ন রাইডিং (পিছনে আরোহী বসানো) নিয়ে জারি করা একগুচ্ছ বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার মামলা গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এই মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন এবং আগামিকালই রয়েছে এর ভাগ্যনির্ধারক শুনানি।
কেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ?
নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দু’দিন আগে থেকে একাধিক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মামলার আবেদনকারী আইনজীবী ঋতঙ্কর দাসের মতে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা বিবেচনা না করেই এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। এতে বিশেষ করে সংকটে পড়েছেন:
-
অফিসযাত্রী ও আইনজীবী: যারা প্রতিদিন বাইকে যাতায়াত করেন।
-
অ্যাপ-বাইক চালক: যাদের রুজি-রুটি সরাসরি বাইক চালানোর ওপর নির্ভরশীল।
-
অনলাইন ডেলিভারি বয়: খাবার বা জরুরি পণ্য সরবরাহে যারা যুক্ত।
কমিশনের নির্দেশিকায় যা যা আছে:
গত ২১ এপ্রিল কমিশন যে নোটিশ জারি করেছে, তাতে বলা হয়েছে:
-
রাতের নিষেধাজ্ঞা: সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (জরুরি অবস্থা ছাড়া)।
-
পিলিয়ন রাইডিং: ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকের পিছনে কাউকে বসানো যাবে না (স্কুল পড়ুয়া বা রোগী ছাড়া)।
-
মিছিল নিষিদ্ধ: ভোটের দু’দিন আগে থেকে কোনো বাইক মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
আদালতের অবস্থান
মামলাকারীর আইনজীবীদের দাবি, কমিশনের এই ‘অযৌক্তিক’ বিজ্ঞপ্তির ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মামলার গুরুত্ব বুঝে এটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন। আগামিকাল হাইকোর্ট এই নির্দেশিকায় কোনো স্থগিতাদেশ দেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে বাইক আরোহীরা।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা
অন্যদিকে, এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা এদিন খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে আবেদন করতে হবে সুপ্রিম কোর্টে। হাইকোর্ট এই প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।