“ভোটের আগে তৃণমূলের বড় জয়!”-৮০০ কর্মীর গ্রেফতারে স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের

প্রথম দফার ভোটের মুখেই বড়সড় আইনি স্বস্তি পেল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের চিহ্নিত করা ৮০০ জন তৃণমূল কর্মীকে আগাম গ্রেফতার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনের অতি-সক্রিয়তায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
কী ছিল কমিশনের পরিকল্পনা?
নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক একটি বিশেষ তালিকা বা ‘টার্গেট লিস্ট’ তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, ওই তালিকায় থাকা ৮০০ জন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর কাজে লিপ্ত। শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে তাঁদের ওপর কড়া নজরদারি এবং প্রয়োজনে নির্বাচনের আগেই গ্রেফতার বা আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ডিআইজি-দের।
হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ
এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন প্রবীণ আইনজীবী ও তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সওয়ালের প্রেক্ষিতে আদালত জানায়:
-
আগাম গ্রেফতার নয়: সতর্কতামূলক ব্যবস্থার নাম করে কাউকে আগেভাগে জেলবন্দি করা যাবে না।
-
সময়সীমা: আগামী ৩১শে জুন পর্যন্ত এই ৮০০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে কোনও দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
-
আইনের পথ খোলা: তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করেছে যে, যদি কেউ নতুন করে কোনও অপরাধমূলক কাজ করেন, তবে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। কিন্তু কেবল আশঙ্কার ভিত্তিতে গ্রেফতার করা চলবে না।
তৃণমূলের জন্য ‘অক্সিজেন’
ভোটের ঠিক আগে এই রায় তৃণমূল শিবিরের জন্য বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, কমিশন একতরফাভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেছে যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালতের এই নির্দেশের পর প্রথম দফার ভোটের লড়াইয়ে তৃণমূল কর্মীরা অনেকটাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নামতে পারবেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কমিশনের যুক্তিতে ধাক্কা
কমিশনের দাবি ছিল, তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা অতীতেও ভোটদানে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে কমিশনের সেই রণকৌশল আপাতত ধাক্কা খেল। এখন দেখার, আদালতের এই নির্দেশের পর কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়।