ইভিএম-এ বোতাম টেপার আগে এই ৫টি ধাপ মনে রাখুন— ভোটদান হবে সহজ ও ঝামেলামুক্ত!

বুথে প্রবেশের পর: আপনার করণীয় (Step-by-Step Guide)

বুথের ভেতরে প্রবেশের পর থেকে ভোট দিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত মোট ৪টি প্রধান ধাপ আপনাকে পার করতে হবে:

ধাপ ১: পরিচয় যাচাই (First Polling Officer) বুথে ঢুকে প্রথম পোলিং অফিসারের কাছে যান। তিনি আপনার নাম এবং পরিচয়পত্র (ভোটার কার্ড বা বিকল্প ১২টি নথি) যাচাই করবেন। নাম তালিকায় থাকলে তিনি উচ্চস্বরে আপনার নাম ও সিরিয়াল নম্বর পড়বেন।

ধাপ ২: আঙুলে কালি ও স্বাক্ষর (Second Polling Officer) দ্বিতীয় পোলিং অফিসার আপনার বাঁ হাতের তর্জনীতে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেবেন। এরপর আপনাকে একটি রেজিস্টারে সই বা টিপছাপ দিতে হবে এবং তিনি আপনাকে একটি স্লিপ দেবেন।

ধাপ ৩: স্লিপ জমা (Third Polling Officer) তৃতীয় পোলিং অফিসারের কাছে আপনার স্লিপটি জমা দিন। তিনি আপনার আঙুলের কালি পরীক্ষা করবেন এবং আপনাকে ইভিএম (EVM) মেশিনের দিকে যাওয়ার অনুমতি দেবেন।

ধাপ ৪: গোপন কক্ষে ভোটদান (EVM & VVPAT) এবার ভোটিং কম্পার্টমেন্টে যান। ইভিএম মেশিনে আপনার পছন্দের প্রার্থীর চিহ্নের পাশের নীল বোতামটি টিপুন।

  • বোতাম টেপার পর একটি লম্বা ‘বিপ’ (Beep) শব্দ শুনতে পাবেন।

  • পাশের VVPAT মেশিনের উইন্ডোতে ৭ সেকেন্ডের জন্য একটি স্লিপ দেখতে পাবেন, যেখানে আপনার পছন্দের প্রার্থীর চিহ্ন ও নাম থাকবে। এটি নিশ্চিত করবে যে আপনার ভোট সঠিক জায়গায় পড়েছে।


ভোট দেওয়ার সময় কী কী করবেন না? (Strictly Prohibited)

নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে নিচের কাজগুলো থেকে বিরত থাকুন:

  • মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ: বুথের ভেতর কোনোভাবেই মোবাইল ফোন, ক্যামেরা বা স্মার্টওয়াচ নিয়ে প্রবেশ করবেন না।

  • ছবি বা ভিডিও তোলা দণ্ডনীয় অপরাধ: ইভিএম মেশিনের বা ভোট দেওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং জেলও হতে পারে।

  • গোপনীয়তা ভঙ্গ করবেন না: আপনি কাকে ভোট দিচ্ছেন তা কাউকে দেখাবেন না বা চিৎকার করে বলবেন না।

  • জোর খাটানো: বুথের ভেতরে কোনো প্রার্থীর হয়ে প্রচার করা বা কাউকে ভোট দিতে প্রভাবিত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

প্রো-টিপ: গরমের কথা মাথায় রেখে সাথে জলের বোতল ও টুপি রাখুন। লাইনে দাঁড়ানোর সময় একে অপরের থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন এবং শান্তি বজায় রেখে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন।