“শুধু গ্রহণযোগ্যতা দেখব!” আইপ্যাক কাণ্ডে ইডি-কে স্পষ্ট বার্তা শীর্ষ আদালতের, ঝুলে রইল ভাগ্য

বহুল চর্চিত আইপ্যাক (I-PAC) মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্টে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে এল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর দায়ের করা এই মামলাটি আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, আপাতত শুধুমাত্র সেই বিষয়টিই খতিয়ে দেখবে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের স্পষ্ট বার্তা— “এই মুহূর্তে আইপ্যাক মামলায় আর কিছু নেই!”
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলায় ইডি-র আবেদনের শুনানি ছিল। শুনানির শুরুতেই শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, মামলার গভীরে যাওয়ার আগে এর আইনি গ্রহণযোগ্যতা (Maintainability) বিচার করা প্রয়োজন। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন.ভি. আনজারিয়ার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই মুহূর্তে মূল মামলার বিষয়বস্তুর চেয়ে এই পিটিশনটি আইনের আওতায় ধোপে টিকবে কি না, তা ঠিক করাই আদালতের প্রাথমিক কাজ।
কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ?
উল্লেখ্য, কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় রাজ্য পুলিশ ও খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। ইডি-র দাবি ছিল:
-
তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ ও নথি রাজ্য পুলিশ জোর করে সরিয়ে দিয়েছে।
-
কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে রাজ্য সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে।
স্বস্তিতে কি তৃণমূল?
আজকের শুনানিতে আদালত যখন জানায় যে তারা কেবল মামলার ‘গ্রহণযোগ্যতা’ পরীক্ষা করবে, তখন তৃণমূল শিবির একে নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। যদি মামলাটি গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে ইডি-র তোলা বাধা দানের অভিযোগগুলি আইনি গুরুত্ব হারাবে। অন্যদিকে, ইডি-র আইনজীবীরা দাবি করছেন যে, তথ্য-প্রমাণ লোপাটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং তা বিচারের আওতায় আসা উচিত।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্ট আপাতত এই মামলার মেরিট বা গুণাগুণ নিয়ে আলোচনার চেয়ে আইনি কাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছে। ফলে আইপ্যাক মামলা এখন এক জটিল আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গেল। ৪ জুন লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের আগে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।