সুপ্রিম কোর্টের রাডারে মুখ্যমন্ত্রী! ইডি-র কাজে বাধা দেওয়া নিয়ে কেন ‘ভয়াবহ’ মন্তব্য করলেন বিচারপতিরা?

আইপ্যাক (I-PAC) মামলার শুনানিতে এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তল্লাশিতে বাধা দেওয়া এবং নথিপত্র সরানোর অভিযোগে তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানাল শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে উঠে এল এক কঠোর শব্দ— ‘গণতন্ত্র বিপন্ন’

সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনা

এদিন মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ইডি-র তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং এন.ভি. আনজারিয়ার বেঞ্চ মন্তব্য করেন যে, কোনো সাংবিধানিক পদে থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা বা বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি নিজেই এভাবে তদন্তে বাধা দেন, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সঙ্কেত।”

কী ঘটেছিল আইপ্যাক দফতরে?

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে কলকাতার সেক্টর ফাইভ এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক-এর দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। অভিযোগ ওঠে:

  • তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং পুলিশ কমিশনারকে নিয়ে সেখানে হাজির হন।

  • ইডি-র বাজেয়াপ্ত করা বেশ কিছু নথি, ল্যাপটপ এবং ডিজিটাল প্রমাণ জোর করে পুলিশ এবং রাজ্য নিরাপত্তা কর্মীরা নিয়ে চলে যান।

  • ইডি অফিসারদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আদালতের

শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “ভবিষ্যতে যদি কেন্দ্রে ক্ষমতার পালাবদল হয় এবং অন্য কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একইভাবে কাজ করেন, তবে কি তা আইনি হবে?” ইডি-র পক্ষ থেকে এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

রাজ্য সরকার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে নষ্ট করছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের আজকের এই পর্যবেক্ষণের পর তৃণমূল শিবির যে বেশ চাপে পড়ল, তা রাজনৈতিক মহলের ধারণা। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই ‘গণতন্ত্র বিপন্ন’ হওয়ার তকমা বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।