“ওয়েস্টার্ন স্টাইলে প্রপোজ করব”,-বলেই হাত-পা বেঁধে প্রেমিককে জ্যান্ত পোড়াল তরুণী

প্রেমের পরিণতি যে এতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা কল্পনা করতেও পারছেন না প্রতিবেশী থেকে শুরু করে খোদ তদন্তকারী আধিকারিকরা। গুরুত্ব না দেওয়া বা এড়িয়ে যাওয়ার ‘অপরাধে’ প্রেমিককে হাত-পা বেঁধে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল প্রেমিকার বিরুদ্ধে। বেঙ্গালুরুর বায়াদারাহল্লি থানা এলাকার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা সিলিকন সিটিতে। অভিযুক্ত তরুণীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
‘সারপ্রাইজ’-এর আড়ালে লুকোনো ছিল মৃত্যু পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম কিরণ (২৭)। অভিযুক্ত প্রেমিকা প্রেমের (২৭) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বুধবার দুপুরে কিরণ যখন প্রেমার বাড়িতে যান, তখন বাড়িতে আর কেউ ছিল না। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য। প্রেমা কিরণকে বলেছিলেন যে, তিনি তাঁকে “পশ্চিমি কায়দায়” বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে সারপ্রাইজ দেবেন।
সেই ‘রোম্যান্টিক’ অভিনয়ের অছিলায় তিনি কিরণের হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং চোখে কাপড় বেঁধে দেন। সরল বিশ্বাসে কিরণ সে সবে রাজিও হন। কিন্তু তারপরই শুরু হয় নারকীয় তান্ডব। আগে থেকেই ঘরে মজুত করে রাখা কেরোসিন কিরণের গায়ে ঢেলে দেশলাই জ্বালিয়ে দেন প্রেমা। চোখের পলকে জীবন্ত অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হন কিরণ।
পরিকল্পিত খুনের ছক? তদন্তকারীদের অনুমান, এই খুন সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। কারণ:
-
ঘরে আগে থেকেই প্রচুর পরিমাণে কেরোসিন মজুত রাখা ছিল।
-
হাত-পা বাঁধার বিষয়টি ছিল খুনের ব্লু-প্রিন্টের অংশ।
-
পুলিশ খতিয়ে দেখছে, গোটা নারকীয় ঘটনাটি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা হয়েছিল কি না।
খুনের নেপথ্যে কী কারণ? কিরণ ও প্রেমা দুজনেই রাজাজিনগরের একটি নামী টেলিকম সংস্থার স্টোরে একসঙ্গে কাজ করতেন। সেখান থেকেই প্রেমের শুরু। কিন্তু সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। প্রেমা অভিযোগ করেন, কিরণ তাঁকে এড়িয়ে চলছেন এবং ফোন ধরছেন না। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এমন চরম সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে পুলিশ।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি উত্তর-পশ্চিম উপবিভাগের উপ কমিশনার ডিএল নাগেশ নিশ্চিত করেছেন যে, খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এসিপি অশোক ও ইনস্পেক্টর ভাস্কর। অভিযুক্ত প্রেমাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার নেপথ্যে থাকা আরও কোনো রহস্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।