অধ্যাপকদের বুথেই যেতে হবে! কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতায় শিলমোহর, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ হাইকোর্টে

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বড় জয় পেল নির্বাচন কমিশন। সরকারি কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা যাবে কি না, তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে বড় মোড়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, অধ্যাপকদের ভোটের কাজে নিযুক্ত করার পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার কমিশনের রয়েছে। এর ফলে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চের দেওয়া স্থগিতাদেশ খারিজ হয়ে গেল।
কেন কমিশনের পক্ষে গেল রায়?
গত শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার করা যাবে না। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত জানায়:
-
জাতীয় স্বার্থই প্রাধান্য: নির্বাচন একটি জাতীয় কর্মযজ্ঞ। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জাতীয় স্বার্থে কাজ করা বাধ্যতামূলক।
-
সময়ের অভাব: আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। এই শেষ মুহূর্তে হাজার হাজার নতুন পোলিং অফিসার নিয়োগ করা কমিশনের পক্ষে অসম্ভব।
-
আইনি যুক্তি: অধ্যাপকরা সরকারি কলেজের কর্মী এবং তাঁরা সরাসরি সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই তাঁদের এই কাজে নিয়োগ করা অসাংবিধানিক নয়।
আদালতে সওয়াল-জবাব: নাগরিক কর্তব্যই বড়
শুনানি চলাকালীন মামলাকারী অধ্যাপকদের আইনজীবী দাবি করেন, এই নিয়োগ তাঁদের ‘সার্ভিস রুল’ বা চাকরির নিয়মের পরিপন্থী। এর উত্তরে বিচারপতি শম্পা সরকার কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, “এটি প্রত্যেক নাগরিকের আইনগত ও সাংবিধানিক কর্তব্য, যা অবশ্যই পালন করতে হবে।”
আদালত আরও জানায়, প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে একজন অধ্যাপক কাজ করলে তাঁর সম্মানহানি হয় না। সেক্টর অফিসার বা অবজার্ভারদের সঙ্গে তাঁদের পদের কোনও সংঘাত নেই। প্রিসাইডিং অফিসারের কাজের পরিধি অনেক বড় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাঁদের মেধার প্রয়োজন রয়েছে।
ভোট মিটলে ফের শুনানি
ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ের ফলে ৩১৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ২১৮ জন, যাঁদের ইতিমধ্যেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে বুথে যেতে হচ্ছে। তবে আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া মিটে যাওয়ার ৬ সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সেই সময় কমিশনকে তাদের সার্ভিস রুল ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিধি বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে।