পূর্ণিয়ায় উৎসবের রাতে ঘোর অন্ধকার! আমবাগান থেকে উদ্ধার ৫ বছরের শিশুর দেহ, ঘাড় কাটা ও দড়ি বাঁধা দেখে স্তম্ভিত গ্রাম

আনন্দমুখর বিয়ের অনুষ্ঠানে মিশে গেল কান্নার সুর। বিহারের পূর্ণিয়া জেলার আমর থানায় এক পাঁচ বছরের কন্যাশিশুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে শিউরে উঠেছে গোটা এলাকা। ধুরপালি পঞ্চায়েতের মধুওয়া কোলা টোলায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারকে নয়, স্তম্ভিত করে দিয়েছে গোটা বিহারের সচেতন সমাজকে।
খাবার খেয়ে ফিরছিল বাড়ি, মাঝপথেই উধাও!
মৃত শিশুর নাম সৌম্য, তার বাবা মনজিৎ কুমার পেশায় একজন আইসক্রিম বিক্রেতা। গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ি ফেরার পথেই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় একরত্তি সৌম্য। দীর্ঘক্ষণ মেয়েকে না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ে পরিবার। মন্দির ও মসজিদের লাউডস্পিকারে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করেও যখন কোনো হদিস মিলল না, তখন এক ভয়াবহ অমঙ্গলের আশঙ্কা ভিড় করে সবার মনে।
আমবাগানে মিলল নিথর দেহ: হত্যার ধরনে চাঞ্চল্য
রাত ১০টা নাগাদ বাড়ির কাছের এক নির্জন আমবাগানে তল্লাশি চালানোর সময় গ্রামবাসীরা সৌম্যর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ:
মেয়েটির গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তার পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মেয়েটিকে অন্য কোথাও খুন করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য বাগানে ফেলে রাখা হয়েছিল।
ধর্ষণের সন্দেহ ও পুলিশের তৎপরতা
খবর পেয়ে আমর থানার পুলিশ এবং একটি বিশেষ ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গ্রামবাসীদের একাংশ সন্দেহ করছেন, খুনের আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দেহটি উদ্ধার করে পূর্ণিয়া সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ
খুন না কি অন্য কিছু? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে, এক সাধারণ বরফ বিক্রেতার ছোট মেয়ের এমন পরিণতিতে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল আতঙ্ক। কেন এক নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে মরতে হলো, সেই উত্তর এখন খুঁজছে পূর্ণিয়া।