বেলডাঙা কাণ্ডে হাইকোর্টে আইনি জট! ইউএপিএ ধারার প্রশ্নে মামলা ছাড়লেন বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা হিংসা মামলায় এনআইএ-র বিশেষ আদালতের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল এনআইএ। কিন্তু মঙ্গলবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, তাঁরা এই মামলার শুনানি করবেন না।

বিচারপতির যুক্তি:
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই মামলায় UAPA (বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন) বা ইউএপিএ-এর ধারা প্রযোজ্য হবে কি না, তা নির্ধারণ করার একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে প্রধান বিচারপতির। যেহেতু এটি একটি সংবেদনশীল আইনি প্রশ্ন, তাই নিয়ম অনুযায়ী এই মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এনআইএ বনাম বিশেষ আদালত: সংঘাতের কারণ
বেলডাঙার হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১৫ জন অভিযুক্তকে সম্প্রতি জামিন দিয়েছে এনআইএ-র বিশেষ আদালত।

কেন জামিন? এনআইএ নির্দিষ্ট ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। একে আইনি পরিভাষায় ‘ডিফল্ট বেল’ বলা হয়।

এনআইএ-র দাবি: জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার যুক্তি, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে জামিনের নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই তাঁরা ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন।

ফিরে দেখা: কী ঘটেছিল বেলডাঙায়?
ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।

বিক্ষোভ: শ্রমিকের মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছাতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অবরোধ: শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুরে রেল অবরোধ করা হয়, যার ফলে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে।

তদন্ত বদল: প্রাথমিক তদন্ত রাজ্য পুলিশ শুরু করলেও হাইকোর্টের নির্দেশে পরবর্তীকালে তদন্তভার নেয় এনআইএ।

ইউএপিএ আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তই এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এনআইএ-র চার্জশিট দিতে দেরি হওয়ার পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না কি অন্য কোনো কারণ, তাও খতিয়ে দেখা হতে পারে।