দেশের প্রথম ডাকঘর বনাম রসুলপুর ব্রিজ! হেরিটেজ আর উন্নয়নের লড়াইয়ে এবার কার দখলে যাবে খেজুরি?

কলকাতা নয়, বাংলার বুকেই গড়ে উঠেছিল দেশের প্রথম ডাকঘর। ইংরেজ বণিকদের হাতে তৈরি সেই ঐতিহাসিক খেজুরিতেই এখন বেজেছে ২০২৬-এর ভোটযুদ্ধের দামামা। জমি আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সাক্ষী এই জনপদে এবার লড়াইটা শুধু রাজনীতির নয়, লড়াইটা অস্তিত্বের এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা মেটানোর।

ইতিহাস বনাম অবহেলা:
অষ্টাদশ শতকের সেই খেজুরি বন্দর আজ স্মৃতি। ভারতের প্রথম ডাকঘর এবং প্রথম টেলিগ্রাফ লাইনের আঁতুড়ঘর আজ জঙ্গল আর ভগ্নস্তূপে পরিণত। রাজ্য সরকার একে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণা করলেও অর্থের অভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। খেজুরিবাসীর ক্ষোভ— শুধু তকমা দিয়ে কী হবে যদি ইতিহাসই মুছে যায়? হেরিটেজ সংরক্ষণ করে এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবার খেজুরির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইস্যু।

ভোটের মূল দাবি: রসুলপুর ব্রিজ
ভোট এলেই আসে প্রতিশ্রুতি, কিন্তু ব্রিজ আর হয় না— এটাই খেজুরির মানুষের চিরকালীন আক্ষেপ। খেজুরি ২ নম্বর ব্লকের সঙ্গে কাঁথির সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য রসুলপুর নদীর ওপর ‘বোগা-রসুলপুর’ সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। এবারও ভোট প্রচারে শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী দল বিজেপি— দুই শিবিরের কাছেই স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন, “সেতুটা কবে হবে?”

জনগণের দাবিদাওয়া:
শুধুমাত্র ব্রিজ বা ইতিহাস নয়, উন্নয়নের আরও একগুচ্ছ দাবি নিয়ে সরব সাধারণ মানুষ:

স্বাস্থ্য পরিকাঠামো: এলাকায় উন্নত মানের সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অভাব।

অগ্নি নির্বাপণ: এলাকায় একটি স্থায়ী দমকল কেন্দ্রের দাবি দীর্ঘদিনের।

যোগাযোগ: পর্যাপ্ত সরকারি বাস পরিষেবা চালু করার দাবি।

তৃণমূল বনাম বিজেপি: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
শাসক দল যখন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছে, বিজেপি তখন ‘উদাসীনতা’ ও ‘ঐতিহাসিক অবমাননা’র ইস্যুকে হাতিয়ার করছে। ইতিহাস আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মেলবন্ধনে কোন দল বাজিমাত করে, এখন সেটাই দেখার। খেজুরির মানুষের রায় কার দিকে যাবে, তা ঠিক করবে রসুলপুর ব্রিজের প্রতিশ্রুতি নাকি হেরিটেজ রক্ষার আবেগ— উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।