গুজরাতে বিষক্রিয়ার মড়ক! বিয়েবাড়ি থেকে হোস্টেল— খাবার খেয়ে অসুস্থ ৫০০-র বেশি, নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্র?

আনন্দ উৎসবের আসর নিমেষেই বদলে গেল হাসপাতালের ওয়ার্ডে। গুজরাতের একাধিক জেলায় হানা দিয়েছে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ‘ফুড পয়জনিং’-এর আতঙ্ক। বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা ছাত্রীবাস— বিষাক্ত খাবারের গ্রাসে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কয়েকশো মানুষ। এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যে ত্রাহি ত্রাহি রব।
বিয়েবাড়িতে হাহাকার: দাহোদে ৪০০ আক্রান্ত
সবচেয়ে বড় এবং মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব গুজরাতের দাহোদ জেলার আভলোদ গ্রামে। একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন ভোজ খেয়ে একের পর এক অতিথি অসুস্থ হতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে ৪০০-রও বেশি মানুষ পেটে যন্ত্রণা ও বমি নিয়ে লুটিয়ে পড়েন। জনজাতি অধ্যুষিত এই এলাকায় হুলুস্থুল পড়ে যায়। আক্রান্তদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঠিক কোন খাবার থেকে এই বিষক্রিয়া, তা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
হোস্টেল থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান— সর্বত্রই একই ছবি:
কেবল দাহোদ নয়, চলতি মাসেই গুজরাতের একাধিক প্রান্ত থেকে এমন খবর সামনে এসেছে:
মেমনগর হোস্টেল: আহমেদাবাদের মেমনগরে একটি নামী গার্লস হোস্টেলে ৫৭ জন ছাত্রী হঠাৎই ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হন। তড়িঘড়ি ৩৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
রাজপুরা গ্রাম: ৯ এপ্রিল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গুজরাতের জনপ্রিয় খাবার ‘সেভ খামানি’ খেয়ে অসুস্থ হন প্রায় ১০০ জন। শুধু তাই নয়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরও ২১৪ জন গ্রামবাসীকে চিকিৎসার আওতায় আনতে হয়েছে।
অ্যাকশন মোডে প্রশাসন:
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক এই ধরণের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে গুজরাত সরকার। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই সন্দেহজনক খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠিয়েছেন। তদন্তকারীদের অনুমান, তীব্র দাবদাহে পচনশীল খাবার বা অস্বাস্থ্যকর রান্নার উপকরণের কারণেই এই গণ-অসুস্থতা।
পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, বারংবার এমন ঘটনায় জনমানসে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। স্বাস্থ্য দপ্তরের কড়া নির্দেশ— উৎসব বা জমায়েতের অনুষ্ঠানে রান্নার মান নিয়ে যেন কোনও আপস না করা হয়।