মোদীকে ঝালমুড়ি খাইয়েই বিপাকে বিক্রম! রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়েও কেন তিতিবিরক্ত ঝাড়গ্রামের মুড়ি বিক্রেতা?

কার মুখ দেখে সেদিন ঘুম থেকে উঠেছিলেন, এখন সেটাই ভাবছেন ঝাড়গ্রামের বিক্রম সাউ। রবিবার প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর আকস্মিক সফরের পর থেকেই বদলে গিয়েছে তাঁর জীবন। ফুটপাথের সেই সাধারণ ঝালমুড়ির দোকান এখন আক্ষরিক অর্থেই গোটা দেশের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এই খ্যাতির আলো এখন রীতিমতো ‘বিড়ম্বনা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিহারের গয়া থেকে আসা এই যুবকের কাছে।

বিক্রি বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে ক্লান্তি:
সোমবার সকাল থেকেই বিক্রমের দোকানে মুড়ি মাখার ফুসরত নেই। ক্রেতার ভিড় তো আছেই, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্মার্টফোনের ক্যামেরা আর সংবাদমাধ্যমের বুম। ঝালমুড়ি মাখবেন নাকি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন— তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রম। কেউ আসছেন সেলফি তুলতে, কেউ আবার রিলস বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার আশায়। বিক্রমের কথায়, “প্রচারের আলোয় চোখ ঝলসে যাচ্ছে, এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারলেই বাঁচি।”

সবটাই কি সাজানো? মুখ খুললেন বিক্রম:
রাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বড় তর্কের বিষয়— মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া কি আদতে ‘স্ক্রিপ্টেড’ বা সাজানো ছিল? সোমবারই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেছেন, “সবটাই আগে থেকে সাজানো নাটক।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে বিক্রম জানান সেই মুহূর্তের হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আসার ঠিক ১০ মিনিট আগে কালো পোশাক পরা এক ব্যক্তি (নিরাপত্তারক্ষী) এসে মুড়ি কিনে খেয়ে যান। তিনি চলে যাওয়ার পরেই দোকানের সামনের বাঁশের ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হয়। আমি ঘুণাক্ষরেও জানতাম না যে খোদ প্রধানমন্ত্রী আমার দোকানে আসছেন।” ওই রহস্যময় কালো পোশাকের ব্যক্তি বিক্রমকে আগাম কোনো ইঙ্গিত দেননি বলেই তাঁর দাবি।

ঝাড়গ্রামের ফুটপাথ থেকে খবরের শিরোনাম:
প্রায় ১৫ বছর আগে গয়া থেকে ঝাড়গ্রামে এসে ফুটপাথে দোকান শুরু করেছিলেন বিক্রমের বাবা উত্তম সাউ। মাঝেমধ্যে মা সুনীতাদেবীও ছেলেকে দোকানে সাহায্য করেন। রবিবারের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাবা-মা দুজনেই উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক তরজা যাই হোক না কেন, ঝাড়গ্রামের সাধারণ এক মুড়ি বিক্রেতা এখন কার্যত ‘ভিআইপি’। তবে প্রচারের এই ঝড়ে আদতে তাঁর ব্যক্তিগত শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে বলেই আক্ষেপ করছেন বিক্রম। ঝালমুড়ির টক-ঝাল স্বাদের মতোই তাঁর জীবন এখন বিচিত্র অভিজ্ঞতায় ভরা।