বিজেপির নিশানায় ল্যান্ড মাফিয়া: মুম্বইয়ের উপকূলীয় দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান ঘিরে শুরু রাজনৈতিক যুদ্ধ

মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক চরম বিতর্কিত ও বিস্ফোরক দাবি তুলে রাজনৈতিক মহলে কম্পন ধরিয়ে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। দলের পক্ষ থেকে মুম্বই এবং পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চলের দ্বীপগুলির মালিকানা ও দখলদারিত্ব নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, মুম্বইয়ের আশেপাশের ১৬৪টি ছোট-বড় দ্বীপের মধ্যে অন্তত ১৫০টিই বর্তমানে “মুসলিম ল্যান্ড মাফিয়া” বা একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দখলদারদের কব্জায় চলে গেছে।
বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি:
কৌশলগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত: বিজেপি নেতাদের দাবি, মুম্বইয়ের উপকূলবর্তী এই দ্বীপগুলি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অবৈধ দখলদারির ফলে এখানে অপরাধমূলক কাজ এবং অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে।
মাজার ও ধর্মীয় কাঠামোর আড়াল: রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বহু নির্জন দ্বীপে রাতারাতি ধর্মীয় কাঠামো বা মাজার তৈরি করে সরকারি জমি দখল করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান: ১৬৪টি চিহ্নিত স্থানের মধ্যে ১৫০টির ক্ষেত্রেই মালিকানায় কারচুপি বা অবৈধ পাট্টা তৈরির অভিযোগ এনেছে গেরুয়া শিবির।
কেন শুরু হয়েছে বিতর্ক?
এই মন্তব্যের পরই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে মেরুকরণের ছায়া স্পষ্ট। বিরোধীরা, বিশেষ করে শিবসেনা (ইউবিটি) এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী), বিজেপির এই অভিযোগকে “নির্বাচনী গিমিক” এবং “সাম্প্রদায়িক উস্কানি” বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, ভোটের আগে আসল উন্নয়নমূলক ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই বিজেপি এই ধরণের পরিসংখ্যান পেশ করছে।
প্রশাসনের তৎপরতা:
বিজেপির এই অভিযোগের পর মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে উপকূলীয় জেলাগুলির কালেক্টর এবং পুলিশ প্রশাসনকে জমি জরিপের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে নবান্ন (মহারাষ্ট্র সচিবালয়) সূত্রে খবর। বিশেষ করে কোস্টাল রেগুলেশন জোন (CRZ) লঙ্ঘন করে এই দ্বীপগুলিতে কোনো নির্মাণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার:
মুম্বইয়ের মতো মহানগরীতে জমির দখল নিয়ে রাজনীতি বরাবরই স্পর্শকাতর। কিন্তু ১৬৪টি দ্বীপের সিংহভাগই ল্যান্ড মাফিয়ার কব্জায় বলে বিজেপি যে দাবি তুলেছে, তা আগামী নির্বাচনে একটি বড় হাতিয়ার হতে চলেছে। এখন দেখার, প্রশাসন এই রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনো উচ্ছেদ অভিযানে নামে কি না।