“লোভে পা দিলে বিচারব্যবস্থা থেকে বের করে দিন!” বিচারপতিদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন মন্তব্য

বিচারব্যবস্থার অন্দরে সততা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন। তাঁর সাফ কথা, বেতন ও ভাতা পর্যাপ্ত হওয়ার পরেও যদি কোনো বিচারক ‘লোভের শিকার’ হন কিংবা ‘প্রলোভনের ফাঁদে’ পা দেন, তবে তাঁকে বিচারব্যবস্থা থেকে সরাসরি ছেঁটে ফেলা উচিত।

প্রলোভন ও বেতন: কী বললেন বিচারপতি?

শনিবার বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের একটি রাজ্যস্তরের সম্মেলনে বক্তৃতা করার সময় বিচারপতি নাগরত্ন মনে করিয়ে দেন যে, দ্বিতীয় জাতীয় বিচারবিভাগীয় কমিশনের সুপারিশ মেনে জেলা আদালতের বিচারকদের বেতন ও ভাতা অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন:

“বিচারকরা যদি নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপন করতে না পারেন এবং লোভের বশবর্তী হন, তবে তাঁদের বিচারব্যবস্থায় থাকার কোনো অধিকার নেই। তাঁদের বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত।”

“একটি কলুষিত সিদ্ধান্তই কলঙ্কিত করে পুরো ব্যবস্থাকে”

বিচারপতি নাগরত্ন জোর দিয়ে বলেন যে, বিচারকদের ওপর বাইরে থেকে কিংবা সতীর্থদের কাছ থেকে চাপ আসতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কোনোভাবেই ‘আপস’ (Compromise) করা চলবে না। তাঁর মতে, একজন বিচারকের ভুল বা কলুষিত সিদ্ধান্ত কেবল তাঁকেই নয়, বরং দেশের গোটা বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করে। সাধারণ মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই একজন বিচারকের মূল কর্তব্য।

হাইকোর্টের প্রতি বিশেষ বার্তা

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের উপস্থিতিতেই বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, জেলা আদালতের বিচারকরা যাতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টগুলোর। বিশেষ করে:

  • পদোন্নতি, বদলি এবং পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।

  • মহিলা বিচারকদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা ও কাজের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন নিয়েও সরব নাগরত্ন

উল্লেখ্য, বিচারপতি নাগরত্ন সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, কমিশন যদি প্রার্থীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা অসম্ভব। এদিনের বক্তব্যেও তাঁর সেই কঠোর ও আপসহীন মনোভাবই ফুটে উঠেছে।