রাজ্য ও কেন্দ্রের DA ফারাক এখন ৩৮%! মোদীর মাস্টারস্ট্রোকে কি সরকারি কর্মীদের ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে’?

একদিকে যখন বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিতে বাংলার সরকারি কর্মীরা রাজপথে আন্দোলন আর সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে জেরবার, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করল মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে রাজ্য ও কেন্দ্রের ডিএ-র ফারাক আরও চওড়া হলো, যা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ।

📈 কেন্দ্রের ডিএ এখন ৬০ শতাংশ

ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য ২ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মোদী মন্ত্রিসভা। এই বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মোট ডিএ-র পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াল ৬০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই এই বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হতে চলেছে।

📉 রাজ্যে ডিএ বৈষম্যের পাহাড়

কেন্দ্রীয় কর্মীরা যখন খুশির মেজাজে, তখন রাজ্যের ছবিটা ঠিক উল্টো। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা বর্তমানে মাত্র ২২ শতাংশ হারে ডিএ পান। যদিও চলতি বছরের অন্তর্বর্তী বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার, তবুও কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাকটা আকাশছোঁয়া।

  • আগে ফারাক ছিল: ৩৬%

  • বর্তমান ফারাক: ৩৮%

⚖️ নজর এখন সুপ্রিম কোর্টে

রাজ্যের সরকারি কর্মীরা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিলেও রাজ্য সরকার রিভিউ পিটিশন দাখিল করে সময় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। একদিকে কেন্দ্রের ধাপে ধাপে ডিএ বৃদ্ধি, অন্যদিকে রাজ্যের ‘টালবাহানা’—সব মিলিয়ে ক্ষোভ ফুঁসছে সরকারি কর্মচারী মহলে।

🗳️ ভোটে কি পড়বে প্রভাব?

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ডিএ নিয়ে এই বিশাল বৈষম্য আসন্ন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সরকারি কর্মীদের একাংশ যখন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি সরব হয়েছেন, তখন এই ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে’ নির্বাচনে কী প্রতিফলন ঘটায়, সেদিকেই নজর সকলের। তবে ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানি ভোটের পরেই হওয়ার কথা, যা এই জটকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করছে।