হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ‘রাজপ্রাসাদ’! ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম প্রকল্পে আদালতের সবুজ সংকেত, কী আছে ভেতরে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বপ্নের প্রকল্প ‘হোয়াইট হাউস বলরুম’ নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে বড়সড় স্বস্তি পেল ট্রাম্প প্রশাসন। ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়ার মার্কিন জেলা আদালত রায় দিয়েছে যে, আপাতত এই নির্মাণকাজ চলতে পারে। যদিও আগামী ৫ জুন একটি শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত, যেখানে স্থির হবে আপিল চলাকালীন কাজ জারি থাকবে কি না।

ইতিহাস বনাম আধুনিকতা: বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু
প্রায় ৪০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকা) ব্যয়ের এই মেগা প্রজেক্টটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ‘ইস্ট উইং’ বা পূর্ব শাখাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ‘ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন’ গত ডিসেম্বরে এই ভাঙার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। তাদের দাবি, ঐতিহাসিক এই ভবন ভাঙার কোনও আইনি অধিকার প্রশাসনের নেই।

বলরুমের নিচে কী লুকোচ্ছেন ট্রাম্প?
এই প্রকল্পটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? ট্রাম্পের বয়ান অনুযায়ী, এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বলরুম, যেখানে একসাথে ১,০০০ অতিথি বসতে পারবেন। তবে এর আসল চমক লুকিয়ে মাটির নিচে।

আধুনিক বাঙ্কার: ৯০,০০০ বর্গফুটের এই বলরুমের নিচে তৈরি হচ্ছে একটি বিশাল সামরিক কমপ্লেক্স।

অত্যাধুনিক সুরক্ষা: এটি হবে সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ এবং এতে থাকবে ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিসহ উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও সুরক্ষা যুক্তি:
বিরোধীরা একে নিয়মবহির্ভূত বললেও ট্রাম্পের দাবি, এই প্রকল্পে কোনও সরকারি তহবিল ব্যবহৃত হচ্ছে না; পুরো অর্থই আসছে ব্যক্তিগত দাতাদের থেকে। তাঁর মতে, এই সংযোজন হোয়াইট হাউসের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আমেরিকার নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

নিম্ন আদালতের বিচারক রিচার্ড লিওন আগে এই কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও, তিন বিচারপতির বেঞ্চ বর্তমানে সেই আদেশে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে আপাতত হোয়াইট হাউসের এই ভোলবদলের কাজ চলতে আর কোনও বাধা রইল না। এখন দেখার, ৫ জুনের শুনানিতে জল কোন দিকে গড়ায়।