“নারীরা বোকা নন!” সংসদে বিল বিপর্যয়ের পর মোদী সরকারকে তুলোধোনা প্রিয়াঙ্কার, ফাঁস করলেন বড় ‘ষড়যন্ত্র’

সংসদে নারী সংরক্ষণ বিলের পরাজয়কে কেন্দ্র করে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। একদিকে শাসক দল যখন বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ তকমা দিচ্ছে, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, গতকালের ঘটনা আদতে গণতন্ত্র এবং সংবিধানের এক বিরাট জয়।
“এটা সংরক্ষণ নয়, সীমানা পুনর্নির্ধারণের চাল”:
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অভিযোগ, সরকার নারীদের উন্নয়নের নাম করে আসলে নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্র করেছিল। তাঁর দাবি, এই বিলটি নারী সংরক্ষণ নিয়ে নয়, বরং সীমানা পুনর্নির্ধারণের (Delimitation) চাবিকাঠি ছিল। তিনি বলেন, “সরকার চেয়েছিল যথেচ্ছভাবে সীমানা নির্ধারণের স্বাধীনতা পেতে, যাতে জাতিগত আদমশুমারির প্রয়োজন না পড়ে। নারীদের ত্রাণকর্তা সেজে আদতে ভোট ব্যাংক দখল করাই ছিল বিজেপির আসল লক্ষ্য।”
সরকারের পরাজয়ে বিরোধী ঐক্যের সুর:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের রেশ টেনে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “সরকার ভয় পেয়েছিল যে বিরোধীরা একজোট হলে তারা ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। তাই নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী ঐক্যের কাছে সরকারের সেই ষড়যন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে।” তাঁর মতে, শাসক দলের নেতাদের মুখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে তাঁরা কতটা হতবাক।
দক্ষিণের রাজ্য নিয়ে বড় আশঙ্কা:
টিভি৯ ভারতবর্ষের এক প্রশ্নের জবাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ইন্দিরা গান্ধী বা অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে আসন পুনর্নির্ধারণ হলেও আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ছোট রাজ্য এবং বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির ক্ষমতা খর্ব করতে চাইছে। তিনি প্রস্তাব দেন, “আসন সংখ্যা না বাড়িয়ে বর্তমান পরিকাঠামোতেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হোক।”
বিজেপির ‘ইতিহাস’ মনে করালেন প্রিয়াঙ্কা:
বিজেপিকে আক্রমণ করে কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, নারীদের প্রতি বিজেপির মনোভাবের ইতিহাস উন্নাও, হাথরাস, নারী ক্রীড়াবিদদের আন্দোলন এবং মণিপুরের ঘটনায় স্পষ্ট। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নারীরা বোকা নন, জনসংযোগের কৌশল দিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করা যাবে না। দেশ বদলে গেছে, এটা বিজেপি যত দ্রুত বুঝবে ততই ভালো।”