“নিজেদের দলেই নেই মহিলা, এখানে বড় লেকচার দিচ্ছেন!” বিজেপির পরিসংখ্যান তুলে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিতর্কের আগুন আরও উসকে দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার লোকসভায় বিল পাসে কেন্দ্রের ব্যর্থতার পর, বিজেপির অন্দরে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিস্ফোরক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। কল্যাণের সাফ কথা— “আগে ঘর সামলান, তারপর বড় বড় লেকচার দিন!”

বিজেপিকে পরিসংখ্যানে ‘শাস্তি’
বক্তব্য রাখতে উঠে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির মহিলা সাংসদদের কম সংখ্যা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি তথ্য দিয়ে জানান:

লোকসভায়: বিজেপির ২৪০ জন সাংসদের মধ্যে মহিলা মাত্র ৩১ জন (১২.৯১%)।

রাজ্যসভায়: ১০৬ জন সাংসদের মধ্যে মহিলা মাত্র ১৮ জন (১৬.৯৮%)।
কল্যাণের প্রশ্ন— যারা নিজেদের দলেই মহিলাদের জায়গা দিতে পারে না, তারা দেশজুড়ে সংরক্ষণের কথা বলে কোন মুখে?

তৃণমূলের ‘চ্যাম্পিয়ন’ রেকর্ড
বিজেপির খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি তৃণমূলের গর্বের রেকর্ডও তুলে ধরেন তিনি। কল্যাণ দাবি করেন, তৃণমূল যা করে দেখিয়েছে, ভারতের কোনো রাজনৈতিক দলের সেই রেকর্ড নেই:

লোকসভায়: তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদের মধ্যে ১১ জনই মহিলা (৩৯.২৮%)।

রাজ্যসভায়: ১৩ জন সাংসদের মধ্যে ৬ জনই মহিলা (৪৬.১%)।
সাংসদ দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, “চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম। আমরা কথা নয়, কাজে বিশ্বাস করি।”

বিজেপিকে নয়া চ্যালেঞ্জ
মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে বিজেপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সরকার যদি সত্যিই মহিলাদের উন্নয়ন চায়, তবে লোকসভার ৫৪৪টি আসনের মধ্যে ৫০ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করে দিক। আমরা আজই সমর্থন করব।” শুধু তাই নয়, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বিজেপিকে ৫০ শতাংশ মহিলা প্রার্থী দেওয়ারও ওপেন চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।

কেন্দ্রের পরাজয় ও প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, শুক্রবার লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং মহিলা সংরক্ষণের পথ প্রশস্ত করতে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি মুখ থুবড়ে পড়ে। বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৩৫২ ভোট) জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় মোদি সরকার।

সংসদে এই পরাজয়ের পরই তৃণমূলের এই আক্রমণ বিজেপিকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও চাপে ফেলল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।