বিলাসবহুল গাড়ি নয়, পায়ে হেঁটেই প্রচার! এক পরিচারিকার বিধানসভা যাত্রার গল্পে মজেছে সোশ্যাল মিডিয়া, চিনুন কলিতাকে

রাজনীতির আঙিনায় বড় বড় প্রাসাদ আর কোটিপতি প্রার্থীদের ভিড়ে তিনি এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। হাতে নেই দামী স্মার্টফোন, নেই কোনো সোনার গয়না, এমনকি ব্যাঙ্কে জমানো পুঁজিও যৎসামান্য। তবুও তিনি আজ সংবাদের শিরোনামে। তিনি কলিতা মাঝি। পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে (তফসিলি জাতি সংরক্ষিত) ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হয়ে এক নজিরবিহীন লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখছেন এই লড়াকু মহিলা।

পরিচারিকা থেকে রাজনীতির ময়দানে: কলিতা মাঝির দিন শুরু হয় অন্যের বাড়ির বাসন মেজে আর ঘর মুছে। স্বামী সুব্রত মাঝি পেশায় একজন প্লাম্বার। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে তাঁদের একমাত্র সম্বল বলতে ভাঙাচোরা একটি বসতবাড়ি। অভাবের তাড়নায় জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে অন্যের সেবায়। কিন্তু দলের প্রতি নিষ্ঠা আর মানুষের পাশে থাকার অদম্য ইচ্ছাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বিধানসভার টিকিট পর্যন্ত।

সম্পত্তির খতিয়ান যা অবাক করবে: নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, কলিতা মাঝির ব্যক্তিগত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ অনেক মধ্যবিত্তের চেয়েও কম। নিজের নামে কোনো বহুমূল্য জমি বা অলঙ্কার নেই তাঁর। হলফনামা বলছে:

  • গয়নাগাটি: নেই বললেই চলে। যৎসামান্য যা আছে তার মূল্য নগণ্য।

  • আর্থিক অবস্থা: ব্যাঙ্কে জমানো টাকার অঙ্ক নামমাত্র।

  • পেশা: প্রার্থী হওয়ার পরেও তিনি নিজের পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন না— তিনি একজন গর্বিত ‘গৃহকর্মী’ বা পরিচারিকা।

কেন কলিতাতেই বাজি ধরল বিজেপি? বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কলিতা মাঝি হলেন ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর প্রকৃত প্রতিচ্ছবি। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তৃণমূলের বড় বড় হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একজন গরিব ঘরের সাধারণ মহিলাকে দাঁড় করিয়ে বিজেপি কার্যত এক বড়সড় সামাজিক বার্তা দিতে চাইছে। দলের মতে, কলিতার লড়াইটা কেবল ভোটের নয়, এটা আত্মসম্মান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।

আউশগ্রামের অলিতে-গলিতে এখন কলিতাকে নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। তিনি কি পারবেন তাঁর অভাবী জীবনের অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার করে বিধানসভায় পৌঁছাতে? মে মাসের ফলাফলেই মিলবে সেই উত্তর। তবে কলিতা মাঝির এই যাত্রা ইতিধ্যেই লাখ লাখ মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।