মহিলা সংরক্ষণ বিল আসলে ‘ছদ্মবেশী’! সংসদে মোদী সরকারকে তুলোধনা তৃণমূল সাংসদ কাকলির

লোকসভা ও বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করতে ঐতিহাসিক বিল পেশ করেছে কেন্দ্র। কিন্তু এই বিলের সময়জ্ঞান এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে গর্জে উঠল তৃণমূল কংগ্রেস। বারাসতের সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সাফ জানালেন, এই বিল আসলে বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার একটি ‘ছদ্মবেশ’ মাত্র।
পরিসংখ্যান দিয়ে আক্রমণ:
কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপির নারী-দরদ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি তথ্যের তুলনামূলক বিচার করে বলেন:
-
তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভা নির্বাচনে ৪১ শতাংশ মহিলা প্রার্থী দিয়েছে।
-
বিপরীতে বিজেপি দিয়েছে মাত্র ১৪ শতাংশ। সাংসদের প্রশ্ন, “আইন হওয়ার আগেই বিজেপি কেন ৩৩ শতাংশ মহিলা প্রার্থী দেয়নি? এটা একটা ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। যদি সত্যি মহিলাদের সম্মান দিতে চান, তবে ৩৩ নয়, ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের বিল আনুন, আমরা আপনাদের পাশে থাকব।”
তিন বিল ও ‘স্বৈরাচারী’ কমিশনের আশঙ্কা:
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মোট তিনটি বিল পেশ করেন। যার লক্ষ্য দেশজুড়ে সীমানা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা। তৃণমূলের অভিযোগ:
-
ডিলিমিটেশন কমিশনের ভয়: তৃণমূলের দাবি, এই প্রস্তাবিত কমিশন ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতোই ‘স্বৈরাচারী’ হয়ে উঠবে।
-
ভোট প্রভাবিত করার ছক: সামনেই পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরলে বিধানসভা ভোট। এই সময়ে হঠাৎ বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিল আনা আসলে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা।
বিচার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন:
মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে কাকলি স্মরণ করিয়ে দেন হাথরস, উন্নাও এবং কাঠুয়ার মর্মান্তিক ঘটনাগুলো। তাঁর দাবি, যে সরকার মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তারা নির্বাচনের মুখে সংরক্ষণ বিল এনে নাটক করছে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে ৩৩ শতাংশের বেশি মহিলা প্রতিনিধি রয়েছেন, আমাদের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী আছেন। বিজেপি কেন এখন এত তাড়াহুড়ো করছে?”
সাংসদদের অনুপস্থিতি ও ক্ষোভ:
আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার এই বিলগুলি নিয়ে ভোটাভুটি হবে। তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলার মতো বড় রাজ্যে যখন ভোট প্রচার তুঙ্গে, তখন ষড়যন্ত্র করেই বিরোধী সাংসদদের দিল্লি উড়িয়ে আনা হয়েছে যাতে নির্বাচনী প্রচারে ব্যাঘাত ঘটে।
এডিটোরিয়াল নোট: মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হওয়া নারী শক্তির জন্য বড় জয় হলেও, ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার শর্ত এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসের জটিলতা বিরোধীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছে। ভোটের বাংলায় এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।