মেয়ে নয়, এবার ‘বরদান’! ছত্তিশগড়ের এই বিয়েতে পাল্টে গেল সমাজের ইতিহাস, কেঁদে ভাসালেন বর!

ভারতীয় সমাজে যুগ যুগ ধরে চলে আসা ‘কন্যাদান’ প্রথাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক ঐতিহাসিক নজির গড়ল ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলার সুলপাগা গ্রাম। ছক ভেঙে এই বিয়েতে সম্পন্ন হলো ‘বরদান’। যেখানে বরের বাবা-মা তাঁদের ছেলেকে তুলে দিলেন কনের হাতে।

৪ মেয়ের বাবা পেলেন ‘ঘরজামাই’ নয়, এক ‘পুত্র’
সুলপাগা গ্রামের কৃষক মোহন এক্কার চার মেয়ে, কিন্তু কোনো ছেলে নেই। বৃদ্ধ বয়সে কৃষিকাজ দেখাশোনা এবং বংশ রক্ষায় কে পাশে দাঁড়াবে— এই দুশ্চিন্তা তাঁকে তাড়া করে বেড়াত। শেষে সামাজিক রীতির বিরুদ্ধে গিয়ে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের মেয়ে দেবমুনি এক্কার সঙ্গে বিলাসুস বরওয়ার বিয়ে এমনভাবে দেন, যাতে জামাই নয় বরং ছেলেই পান তিনি। বরের পরিবারও আনন্দের সাথে এই প্রস্তাবে রাজি হয়।

কান্নায় ভেঙে পড়লেন বর: এক আবেগঘন বিদায়
সাধারণত বিয়ের পর কনেকে কাঁদতে কাঁদতে বাপের বাড়ি ছাড়তে দেখা যায়। কিন্তু এই বিয়েতে দেখা গেল ঠিক উল্টো ছবি। কনে দেবমুনি নিজে বরযাত্রী নিয়ে বরের বাড়ি পৌঁছান। বিয়ের আচার শেষে যখন বিদায়ে পালা আসে, তখন শ্বশুরবাড়ির (কনের বাড়ি) উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বর বিলাসুস। হাউহাউ করে তাঁর কান্নার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত গ্রামবাসীরা।

যৌতুকমুক্ত বিয়ে ও সামাজিক বার্তা
এই বিবাহটি কেবল প্রথা ভাঙার কারণেই নয়, বরং আদর্শগত কারণেও শ্রেষ্ঠ।

যৌতুকহীন বিবাহ: বিয়েতে কোনো যৌতুক নেওয়া বা দেওয়া হয়নি।

মাসি প্রথা: স্থানীয় ‘মাসি’ প্রথা মেনে অত্যন্ত সাধারণভাবে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।

স্বেচ্ছায় উপহার: প্রথা অনুযায়ী ‘চুমান’ ঐতিহ্যের মাধ্যমে বরের পরিবার পরে স্বেচ্ছায় কিছু উপহার কনে পক্ষকে দেবেন।

সমাজের নতুন দৃষ্টান্ত
গ্রামের বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই ঘটনা পুত্রসন্তানহীন পরিবারগুলোর জন্য এক আলোর দিশা। সমাজকে বার্তা দেওয়া হলো যে, মেয়েরাও পরিবারের খুঁটি হতে পারে; শুধু প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। সুলপাগা গ্রামের এই ‘বরদান’ অনুষ্ঠান এখন গোটা রাজ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।