জন্মদিনের পার্টিতে মাদক মেশানো পিৎজা খাইয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ! রাঁচিতে খোদ ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’-এর বিশ্বাসঘাতকতা?

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচির লালপুর থানা এলাকায় এমডিএস (স্নাতকোত্তর ডেন্টাল সার্জারি) প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এক মেধাবী ছাত্রী। কিন্তু ৯ এপ্রিল নিজের প্রিয় বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হবে তাঁকে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। অভিযোগ, মাদক মেশানো পিৎজা খাইয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জন্মদিনের পার্টিতে মরণফাঁদ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৯ এপ্রিল ওই ছাত্রী তাঁর বান্ধবী অলি বিশ্বকর্মার জন্মদিনের পার্টিতে লালপুর এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিল দানিশ, ফাহাদ মল্লিক এবং শাদাব নামে তিন যুবক। কেক কাটার পর দানিশ ওই ছাত্রীকে পিৎজা খেতে দেয়। পিৎজা খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি নেশাচ্ছন্ন ও অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। অভিযোগ, আরাম করানোর অজুহাতে দানিশ তাঁকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে যায় এবং সেই অচৈতন্য অবস্থাতেই তাঁকে ধর্ষণ করে।
সহায়তার বদলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা
পরদিন সকালে জ্ঞান ফিরলে ওই ছাত্রী তাঁর বান্ধবী অলি বিশ্বকর্মাকে সব জানান। কিন্তু সাহায্য করার বদলে অলি ওই ছাত্রীকে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে বাধা দেয় এবং পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এরপর ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখান থেকেই লালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশের ত্বরিত অ্যাকশন: খড়গপুর থেকে গ্রেফতার ২
রাঁচির এসএসপি-র নির্দেশে সিটি এসপি পারস রানার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, মূল অভিযুক্তরা বাংলা হয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে খড়গপুর থেকে মো. দানিশ ও ফাহাদ মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বান্ধবী অলি বিশ্বকর্মাকেও রাঁচি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পলাতক চতুর্থ অভিযুক্ত
রাঁচি সিটি এসপি এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, ধৃত তিনজনকে আদালতের নির্দেশে জেলে পাঠানো হয়েছে। এই নক্কারজনক ঘটনায় জড়িত চতুর্থ অভিযুক্ত শাদাব এখনও পলাতক। তার সন্ধানে পুলিশের তল্লাশি জারি রয়েছে।