শুধু মেধা নয়, কোটি কোটি টাকার খেলা! মধ্যপ্রদেশ বোর্ডের সাফল্যের চাবিকাঠি কি এই বিশাল বাজেট? চমকে দেবে তথ্য

মধ্যপ্রদেশ বোর্ডের ফলাফল প্রকাশিত হতেই খুশির হাওয়া পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে। তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দ্বাদশ শ্রেণির পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.০১ শতাংশ এবং দশম শ্রেণিতে পাশের হার ৭৩.৪২ শতাংশ। তবে এই সাফল্য কেবল পড়ুয়াদের পরিশ্রমেই নয়, এর পেছনে রয়েছে রাজ্য সরকারের বিশাল আর্থিক বিনিয়োগ। গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রদেশ সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেটে যে পরিমাণ বরাদ্দ বাড়িয়েছে, তার ইতিবাচক প্রভাবই প্রতিফলিত হয়েছে এই রেজাল্টে।

শিক্ষায় মেগা বিনিয়োগ: ৩ বছরে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি
মধ্যপ্রদেশ সরকার গত তিন বছরে শিক্ষা, খেলাধুলা এবং শিল্প-সংস্কৃতির বাজেটে অভূতপূর্ব বদল এনেছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বাজেট বৃদ্ধির পরিসংখ্যান:

২০২৫ অর্থবর্ষ: এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৪,২৬৫ কোটি টাকা।

২০২৬ অর্থবর্ষ: বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয় ৫১,৫০৯ কোটি টাকা (সংশোধিত ৪৬,৮৪৪ কোটি)।

২০২৭ অর্থবর্ষ (চলতি): বাজেট পেশ করা হয়েছে ৫২,৯১৭ কোটি টাকা। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বা ৬,০৭৩ কোটি টাকা বেশি।

গত ৩ বছরের হিসেবে এই বাজেটে মোট ২০ শতাংশ বা ৮,৬৫২ কোটি টাকার বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

সমগ্র শিক্ষা অভিযান: ৫৬০০ কোটির বরাদ্দ
স্কুলস্তরের পরিকাঠামো আমূল বদলে দিতে সরকার সমগ্র শিক্ষা অভিযানে বিশেষ জোর দিয়েছে। ২০২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই অভিযানের জন্য ৫,৬৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মূল লক্ষ্য: স্কুলের বিল্ডিং উন্নয়ন, শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার। সরকারের লক্ষ্য হলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পড়ুয়াদের লার্নিং আউটকাম বা রেজাল্ট আরও উন্নত করা।

রাজ্যের অর্থনীতি ও সামগ্রিক বাজেট এক নজরে
মধ্যপ্রদেশের অর্থনীতি বর্তমানে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিচে দেওয়া হলো:

GSDP: মধ্যপ্রদেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ১৮,৪৮,২৭৪ কোটি টাকা হওয়ার অনুমান করা হয়েছে (১১ শতাংশ বৃদ্ধি)।

মোট ব্যয়: ঋণ পরিশোধ বাদে মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩,৮৮,৯২৩ কোটি টাকা।

রাজস্ব উদ্বৃত্ত (Revenue Surplus): গত বছরের ৭ কোটির তুলনায় এ বছর রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৪৪ কোটি টাকা হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

রাজকোষ ঘাটতি (Fiscal Deficit): GSDP-র ৩.৯ শতাংশ বা ৭১,৪৫৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।