নারীদের সংরক্ষণে মায়ার মাস্টারস্ট্রোক! লোকসভায় ৩৩% আসন নিয়ে বড় বার্তা বিএসপি নেত্রীর

ভারতের সংসদ ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড়। এই আবহে বড় পদক্ষেপ নিলেন বহুজন সমাজ পার্টির (BSP) সুপ্রিমো তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। এই বিলকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন, নারীদের প্রকৃত অধিকার আদায়ে এটি একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কিন্তু সদর্থক সূচনা।

“৩৩ নয়, দাবি ছিল ৫০ শতাংশের”
লখনউতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মায়াবতী বলেন, বিএসপি বরাবরই নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি মনে করেন, জনসংখ্যার অনুপাতে ৫০ শতাংশ আসনই নারীদের প্রাপ্য। তাঁর কথায়, “অন্যান্য দলগুলি ৫০ শতাংশে রাজি না হলেও, অন্তত ৩৩ শতাংশ দিয়ে শুরু হওয়াটা জরুরি। এতে দেরি হলেও আমরা একে স্বাগত জানাই।”

দলিত ও ওবিসি নারীদের জন্য বিশেষ দাবি
মায়াবতী এই সংরক্ষণের মধ্যে একটি ‘কোটা-র ভেতরে কোটা’র দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং ওবিসি (OBC) সম্প্রদায়ের মহিলারা ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে আছেন। তাই এই ৩৩ শতাংশের মধ্যে যদি প্রান্তিক নারীদের জন্য পৃথক সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকে, তবে এই বিলের উদ্দেশ্য অধরাই থেকে যাবে।

বাবাসাহেব আম্বেদকর ও কংগ্রেসের সমালোচনা
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এদিন বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকরকে স্মরণ করে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন:

স্বাধীনতার পর কংগ্রেস সরকার তাদের সংকীর্ণ জাতিভেদ প্রথার মানসিকতার কারণে নারীদের অধিকার দিতে গড়িমসি করেছিল।

ওবিসি সংরক্ষণ এবং নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়েই বাবাসাহেব আইনমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

বিএসপি নেত্রীর মতে, নারী ক্ষমতায়ন এখন কেবল কথার কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাস্তবে নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদা আজও সংকটে।

কেন এই সমর্থন তাৎপর্যপূর্ণ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে মায়াবতীর এই অবস্থান অত্যন্ত কৌশলী। একদিকে সংরক্ষণের কৃতিত্ব বিজেপিকে একচ্ছত্রভাবে নিতে না দেওয়া, অন্যদিকে মহিলা ভোটারদের মনে নিজের অবস্থান মজবুত করাই বিএসপি প্রধানের মূল লক্ষ্য।