“যুদ্ধ শেষ, কিন্তু কাজ বাকি!” ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে কীসের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প?

একদিকে শান্তির ললিত বাণী, আর অন্যদিকে ধ্বংসের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি! ইরান-আমেরিকা সংঘাত কি এবার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। ফক্স বিজনেস-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি “প্রায় শেষের মুখে” হলেও মার্কিন সামরিক অভিযান এখনও পুরোপুরি ইতি টানেনি।
“ওরা এখন মরিয়া হয়ে চুক্তি চাইছে”— ট্রাম্প
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তেহরানকে কার্যত কোণঠাসা করার দাবি তুলে বলেন, “আমি মনে করি যুদ্ধ প্রায় শেষ, কিন্তু আমাদের কাজ এখনও বাকি। আমি এখনই সরে দাঁড়ালে ইরানকে নতুন করে গড়তে ২০ বছর সময় লেগে যাবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওরা এখন যেকোনো মূল্যে আমাদের সঙ্গে একটা চুক্তিতে আসতে চাইছে।”
কেন ইরানের ওপর বিধ্বংসী হামলা?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে যে ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা, তাতে মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। সেই হামলার যৌক্তিকতা বুঝিয়ে ট্রাম্প বলেন:
পরমাণু ভীতি: ট্রাম্পের দাবি, হামলা না করলে ইরান এতদিনে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশে পরিণত হতো।
বিশ্বের নিরাপত্তা: ইরান পরমাণু শক্তিধর হলে গোটা বিশ্বকে তাদের সামনে মাথা নত করতে হতো, যা রুখতেই এই চরম পদক্ষেপ।
হরমুজ প্রণালীতে নিশ্ছিদ্র অবরোধ ও আলোচনার টেবিল
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া পাহারায় ইরানের সমুদ্রপথ কার্যত রুদ্ধ। হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকায় কোনও বাণিজ্যিক জাহাজই ইরানের বন্দরে ঢুকতে পারছে না। এই সাঁড়াসি চাপের মাঝেই:
ইসলামাবাদ বৈঠক: আগামী দু’দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
জেডি ভ্যান্সের বার্তা: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ট্রাম্প একটি ‘বৃহত্তর চুক্তি’ করতে আগ্রহী, তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
অশনি সংকেত: আপাতত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকলেও তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ এপ্রিল। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর কি ফের গর্জে উঠবে রণতরী? নাকি আলোচনার টেবিলে মিলবে সমাধান? উত্তরের অপেক্ষায় বিশ্ববাসী।