লিটারে ৩৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ভারতের তেল সংস্থাগুলো

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবার সরাসরি আঘাত হানছে ভারতের জ্বালানি অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বাড়লেও, ঘরোয়া বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কিন্তু এই কৃত্রিম স্থিতিশীলতা এখন তেল সংস্থাগুলোর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল এবং এইচপিসিএল-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখোমুখি।
পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংস্থাগুলিকে প্রতি লিটার পেট্রোলে প্রায় ১৮ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৩৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের পর খুচরো বাজারে তেলের দামে বড় কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এই ঘাটতি পাহাড়প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় এই লোকসানের পরিমাণ দিনে ২৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল, যা বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৬০০ কোটি টাকায় এসে ঠেকেছে। কেন্দ্র সরকার আবগারি শুল্ক কিছুটা কমালেও, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় সেই সুবিধা ম্লান হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি ত্রৈমাসিকে এই সংস্থাগুলির ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলার বাড়লে সংস্থাগুলোর লিটার প্রতি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ টাকা বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনগুলি মিটে গেলেই একধাক্কায় অনেকটা বাড়তে পারে জ্বালানির দাম। ভারত তার চাহিদার ৮৮ শতাংশ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে, ফলে বিশ্ববাজারের সামান্য রদবদলও ভারতের অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এমনকি সরকার যদি করের বোঝা পুরোপুরি সরিয়ে নেয়, তাহলেও সংস্থাগুলির এই বিপুল লোকসান মেটানো সম্ভব হবে না, বরং তাতে রাজকোষের ঘাটতি আরও বাড়বে।