ভোটের আগেই মাস্টারস্ট্রোক! ৫৪৩ থেকে একলাফে ৮৫০ হচ্ছে লোকসভা, ২৭৩ জন নারী সাংসদ কাঁপাবেন দিল্লি!

ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংস্কারের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বিশেষ অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধন) বিল, ২০২৬’। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো—২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং লোকসভার মোট সদস্য সংখ্যা এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ৮৫০ করা।
কেন আসন বাড়ছে? (অংকের হিসেব)
বর্তমানে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, আসন পুনর্বিন্যাসের (Delimitation) পর এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৮৫০। এর মধ্যে:
-
রাজ্যগুলি থেকে সরাসরি নির্বাচিত হবেন: ৮১৫ জন সদস্য।
-
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে আসবেন: ৩৫ জন সদস্য।
-
মহিলাদের জন্য বরাদ্দ: এই ৮৫০টি আসনের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
২০১১-র জনগণনাকেই হাতিয়ার
সাধারণত আসন পুনর্বিন্যাস পরবর্তী জনগণনার ওপর ভিত্তি করে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী জনগণনা ও ডিলিমিটেশনের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই এই নতুন আসন বিন্যাস কার্যকর করা হবে। এর ফলে ২০২৯-এর ভোটেই মহিলারা সংরক্ষিত আসনে লড়ার সুযোগ পাবেন।
কেন এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ?
বিলের বিবৃতিতে সরকার জানিয়েছে, পরবর্তী জনগণনার জন্য অপেক্ষা করলে মহিলাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আরও পিছিয়ে যাবে। নারীশক্তিকে দ্রুত নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার মূল স্রোতে আনতেই সংবিধানের ৮১ এবং ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
এই বিল ঘিরে ইতিমধ্যেই সরগরম জাতীয় রাজনীতি। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি মহিলাদের সংরক্ষণের বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও, ‘আসন পুনর্বিন্যাস’ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আশঙ্কা, উত্তর ভারতের তুলনায় তাদের আসন সংখ্যা কমে যেতে পারে। তবে বিজেপি শিবিরের দাবি, এই পদক্ষেপে দেশের অখণ্ডতা আরও মজবুত হবে এবং মহিলারা প্রকৃত ক্ষমতায়ন পাবেন।
উপসংহার: নতুন সংসদ ভবনের বিশাল হলে ৮৫০ জন সাংসদের বসার ব্যবস্থা তো আছেই, এবার সেই আসনগুলি ভরার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো। এটি কার্যকর হলে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম এবং অন্যতম নারী-প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে পরিণত হবে।