আই-প্যাক কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য! এবার কেন্দ্রীয় সংস্থার স্ক্যানারে সস্ত্রীক প্রতীক জৈন, বড় বিপদে ঘাসফুল শিবিরের থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক?

বাংলার রাজনৈতিক মহলে যেন বোমাবর্ষণ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আই-প্যাকের কো-ফাউন্ডার ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করার পর এবার তদন্তের জাল আরও চওড়া করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। সূত্রের খবর, আই-প্যাকের অন্যতম প্রধান মুখ প্রতীক জৈনের স্ত্রী ও ভাইকে এবার তলব করেছে ইডি। ভোটের মুখে এই ঘটনা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্তের মূল গতিপ্রকৃতি: তদন্তকারীদের দাবি, ভিনেশ চান্ডেলকে জেরা করে বেশ কিছু সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মিলেছে। আই-প্যাকের আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন শেল কোম্পানির মাধ্যমে টাকা ঘোরানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে প্রতীক জৈনের পরিবারের সদস্যদের নাম জড়িয়েছে বলে মনে করছে ইডি। এই আর্থিক যোগসূত্র খুঁজতেই তাঁদের তলব করা হয়েছে।

কেন এই তলব?

  • ইডি আধিকারিকরা জানতে চান, আই-প্যাকের আড়ালে কোনো বেনামি সম্পত্তি কেনা হয়েছে কি না।

  • প্রতীক জৈনের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের কোনো লেনদেন হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারির পর যে সমস্ত ডিজিটাল নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তার সাথে এই তলবের সরাসরি যোগ রয়েছে বলে খবর।

রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে: আই-প্যাক যেহেতু তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল এবং ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মেরুদণ্ড, তাই এই সংস্থাকে টার্গেট করা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল রীতিমতো রণংদেহী মেজাজে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, “প্রতীক জৈনের পরিবারকে হেনস্থা করে আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে বিজেপি।”

পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: আই-প্যাকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর ইডি-র এই চাপ বৃদ্ধির অর্থ হলো—তদন্ত কেবল রাজনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন পারিবারিক স্তরেও পৌঁছেছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল তৈরির এই মহূর্তে আই-প্যাকের ওপর ইডি-র এই কড়াকড়ি তৃণমূলের ভোট প্রচারের গতি মন্থর করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।