“হরমুজের দখল নিল আমেরিকা!”-মাঝসমুদ্রে বিপাকে ভারতের ১৫টি জাহাজ, ঘনিয়ে আসছে বড় সংকট?

হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! পাকিস্তান সীমান্তে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হতেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এই এক ঘোষণাতেই আরব সাগরে চরম বিপাকে পড়েছে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো। বিশেষ করে ভারতের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই রুটে এখন টানটান উত্তেজনা।
মাঝসমুদ্রে আটকে ১৫টি জাহাজ, উৎকণ্ঠায় ভারত
নৌপরিবহণ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের পশ্চিম অংশে এখনও ১৫টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
-
তেল ও গ্যাস: ৬টি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার এবং এলএনজি-এলপিজি বাহী জাহাজ।
-
অন্যান্য: ৩টি কন্টেইনার জাহাজ, একটি রাসায়নিক পণ্যবাহী এবং একটি ড্রেজার।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০,৪০০ টন এলপিজি নিয়ে মুম্বইয়ের পথে থাকা ‘জগ বিক্রম’-এর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছে প্রশাসন। আগামী ১৫ এপ্রিল জাহাজটির মুম্বই পৌঁছনোর কথা।
অ্যাকশনে ইন্ডিয়ান নেভি: নজর রাখছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধের তৎপরতায় ময়দানে নেমেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ অ্যাডিশনাল টাস্ক ফোর্স। যদিও নৌবাহিনী সরাসরি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করছে না, তবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে ওমান উপসাগর থেকে উত্তর আরব সাগর পর্যন্ত ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ পাহারায় পৌঁছে দিচ্ছে তারা।
বিস্ফোরক এই পরিস্থিতি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং নৌবাহিনী প্রধান ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ দিল্লি।
সফল উদ্ধার অভিযান ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
প্রাথমিকভাবে মোট ২৫টি ভারতীয় জাহাজ এই গোলযোগে আটকে পড়েছিল। তবে নৌবাহিনীর দক্ষতায় ইতিমধ্যে ১০টি জাহাজ নিরাপদে দেশের বন্দরে পৌঁছেছে। সম্প্রতি:
-
‘গ্রিন সানভি’: ৪৬,৬৫৫ টন এলপিজি নিয়ে গুজরাতে নোঙর করেছে।
-
‘পাইন গ্যাস’: ৪৫,০০০ টন এলপিজি পৌঁছে দিয়েছে নিউ ম্যাঙ্গালোরে।
কিন্তু এখনও যে ১৫টি জাহাজ আটকে আছে, তাদের উদ্ধার করাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। আমেরিকা ও ইরানের এই ক্ষমতার লড়াইয়ে ভারত কি বড় কোনো তেলের সংকটে পড়বে? নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।