নারী সংরক্ষণের আড়ালে আসন পুনর্নির্ধারণের ‘গোপন এজেন্ডা’! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ তৃণমূলের

কেন্দ্রীয় সরকারের নারী সংরক্ষণ বিল এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার জোড়াফুল শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে আসলে নিজেদের ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন এজেন্ডা’ কার্যকর করতে চাইছে মোদী সরকার।
তৃণমূলের মূল আপিল ও অভিযোগ: তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ও সাংসদ সাগরিকা ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা নারী সংরক্ষণের বিরোধী নন; কিন্তু ১৫ বছর পুরনো ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে তড়িঘড়ি কেন এই বিল আনা হচ্ছে? তৃণমূলের দাবি, বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া এবং একটি বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার এই চেষ্টা আসলে গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর ‘বুলডোজার’ চালানোর সমান।
আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব: আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই বিলটি পেশ হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তৃণমূলের মতে, এই ব্যাপক পরিবর্তনের আড়ালে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
সাগরিকা ও সাকেত গোখলের তোপ: সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে লেখেন, “ভারত কোনও একদলীয় গণতন্ত্র নয়। ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালে ভারতের সংসদীয় কাঠামো বদলানো যায় না।” অন্যদিকে, সাকেত গোখলে একে ‘ভুয়ো ও বিদ্বেষমূলক এজেন্ডা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, মোদী সরকার মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসলে সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে আসন বিন্যাস নিজেদের অনুকূলে করতে চাইছে।