মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধংদেহী আবহে রান্নার গ্যাস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! ৫ কেজির সিলিন্ডারে বিশেষ ছাড় কেন্দ্রের, সুবিধা পাবেন কারা?

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বাজতেই ভারতের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারত তার এলপিজি (LPG) চাহিদার প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে আমদানি করে। বর্তমান সংকটে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবার ‘দ্বিমুখী কৌশল’ নিল মোদী সরকার। একদিকে যেমন ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের বিক্রি বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস (PNG) সরবরাহে রেকর্ড গড়েছে দেশ।
কী এই নতুন কৌশল?
১. ছোট সিলিন্ডারে স্বস্তি: ভর্তুকিহীন বা কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই যাতে সাধারণ মানুষ এবং পরিযায়ী শ্রমিকরা গ্যাস পান, তার জন্য ৫ কেজির ‘ফ্রি ট্রেড’ সিলিন্ডারের জোগান বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১ লক্ষেরও বেশি এই ছোট সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।
২. পিএনজি বিপ্লব: সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দিতে রেকর্ড গড়েছে কেন্দ্র। গত মার্চ মাস থেকেই ৪ লক্ষ ২৪ হাজার নতুন পিএনজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকার আইজিএল (IGL) এবং গেইল (GAIL)-কে নির্দেশ দিয়েছে যাতে হোটেল, মল ও রেস্তোরাঁগুলোর মতো বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দ্রুত পিএনজি সংযোগ দেওয়া হয়, যাতে বেঁচে যাওয়া এলপিজি সাধারণ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া যায়।
৩. কালোবাজারি রুখতে ডিজিটাল নজরদারি: সংকটকালে গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯৮% বুকিং হচ্ছে অনলাইনে এবং ৯৩% ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে ওটিপি (OTP) ভিত্তিক যাচাইকরণের মাধ্যমে। ফলে ভুয়ো গ্রাহকদের হাতে গ্যাস যাওয়ার পথ বন্ধ।
৪. কৃষিক্ষেত্রে অগ্রাধিকার: শুধু রান্নাঘর নয়, দেশের অন্নদাতাদের স্বার্থে সারের কারখানাগুলোর জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের বরাদ্দ ৯৫% বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। এর ফলে যুদ্ধের বাজারেও সারের ঘাটতি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ে বড় আপডেট: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের পকেটে যাতে টান না পড়ে, তার জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক প্রতি লিটারে ১০ টাকা কমিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরীণ জোগান বজায় রাখতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি (ATF) রপ্তানির ওপর কর বাড়ানো হয়েছে।