বর্ষায় কি তবে খরা? এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬-এ স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির সতর্কতা আইএমডি-র!

২০২৬ সালের বর্ষা নিয়ে বড়সড় দুঃসংবাদ শোনাল ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD)। সোমবার মৌসুমি বায়ুর দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস জারি করে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা দুর্বল হতে পারে। ফলে সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান কী বলছে? আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দীর্ঘকালীন গড়ের (LPA) মাত্র ৯২ শতাংশ হতে পারে। সাধারণত ৯৪ শতাংশের নিচে বৃষ্টিপাত হলে তাকে ‘স্বাভাবিকের চেয়ে কম’ হিসেবে গণ্য করা হয়। আইএমডি জানিয়েছে, এই হিসেবে ৫ শতাংশ কমবেশি হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে বর্ষা এবার কিছুটা কৃপণই থাকবে।

ভিলেন সেই ‘এল নিনো’: কেন এই কম বৃষ্টির পূর্বাভাস? আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো (El Niño) সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জুনের পর যদি এল নিনো শক্তিশালী হয়, তবে তা মৌসুমি বায়ুর শক্তি কেড়ে নেয়। যদিও ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল (IOD) ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এল নিনোর ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা হলেও কমিয়ে বৃষ্টি ঝরাতে সাহায্য করতে পারে।

কৃষিতে অশনি সংকেত: ভারতের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত বর্ষার ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টি কম হলে ধান, ডাল ও তৈলবীজ চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে দেশের সর্বত্র পরিস্থিতি এক হবে না:

  • স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা: উত্তর-পূর্ব ভারত, উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশ এবং দক্ষিণ উপদ্বীপীয় অঞ্চলে বৃষ্টি ভালো হতে পারে।

  • বিপত্তি যেখানে: মধ্য ভারত ও বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল কৃষি প্রধান এলাকাগুলোতে খরা সদৃশ পরিস্থিতির ঝুঁকি থাকছে।

পরবর্তী আপডেট কবে? মে মাসে আবহাওয়া দপ্তর থেকে বর্ষার দ্বিতীয় দফার পূর্বাভাস জারি করা হবে। তখন বৃষ্টির সঠিক বণ্টন এবং এল নিনোর প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে। আপাতত মে মাসের প্রবল তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।