তিন ভাইবোনের পরিবারে এল কোথা থেকে আরও ৩ দাদা? ‘ভুতুড়ে’ তথ্যে ভোটার তালিকা থেকে বাদ প্রতিমা!

উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় এক অদ্ভুত এবং চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। বাস্তবে দুই ভাই ও এক বোনের পরিবার, কিন্তু সরকারি নথিতে হঠাৎই উদয় হল আরও তিন ‘ভুতুড়ে’ দাদার! আর এই অদ্ভুত নাম বিভ্রাটের জেরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল পরিবারের একমাত্র মেয়ে প্রতিমা দাসের। নিয়ম অনুযায়ী বাবা-মায়ের সন্তানের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় প্রতিমাকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করল সিস্টেম।

কী এই রহস্যময় ঘটনা? বাগদা ব্লকের হেলেঞ্চা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা নিত্য দাসের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হলে তাঁরা নিয়ম মেনে সব নথি জমা দেন। কিন্তু প্রতিমা যখন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে যান, তখন তাঁকে জানানো হয় যে তাঁর নাকি ইতিমধ্যেই পাঁচ ভাই নথিভুক্ত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একটি পরিবারে পাঁচের বেশি সন্তান থাকলে নাম তোলার পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল। এই নিয়মের গেরোতেই ফেঁসে যান প্রতিমা।

আঁতকে উঠলেন বৃদ্ধ বাবা: নিজের দুই ছেলের বাইরে আরও তিন ছেলে কোথা থেকে এল, তা শুনে আকাশ থেকে পড়েছেন ৬৫ বছরের নিত্য দাস। প্রতিমার অভিযোগ, “আমরা তিন ভাই-বোন। অথচ তালিকায় দেখাচ্ছে আমার নাকি পাঁচ দাদা আছে! আমাদের বাবা-মায়ের পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কেউ কি নাম তুলে নিয়েছে? আমরা সেই তিনজনের পরিচয় জানতে চাইলেও প্রশাসন নীরব।”

পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের ভূমিকা: স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অঞ্জু বিশ্বাস পোদ্দার জানিয়েছেন, তিনি নিত্যবাবুর পরিবারকে দীর্ঘকাল চেনেন এবং তাঁদের তিন সন্তানের বাইরে আর কেউ নেই। এটি যে একটি বড়সড় জালিয়াতি বা এসআইআর-এর মারাত্মক ভুল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বাগদার বিডিও অখিল মণ্ডল জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজের অধিকার ফিরে পেতে এবং এই ভুতুড়ে তিন দাদাদের পরিচয় সামনে আনতে এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাগদার মেয়ে প্রতিমা।