‘খেলব আয়’ বলে ঘরে ডেকেই পৈশাচিকতা! ৪ বছরের ভাইঝিকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগে রণক্ষেত্র গাজিয়াবাদ

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক নারকীয় অপরাধের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। যে সম্পর্কের ওপর ভরসা করে মানুষ সবথেকে বেশি নিশ্চিন্ত থাকে, সেই কাকার হাতেই প্রাণ গেল চার বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকন্যার। ‘খেলতে যাওয়ার’ নাম করে ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে ভাইঝিকে ধর্ষণ এবং তারপর নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল নিজের কাকার বিরুদ্ধে। ঘটনার দু’দিন পর পুলিশের তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? গত ১১ এপ্রিল রাতে গাজিয়াবাদের শালিমার গার্ডেন রোডে একটি পরিত্যক্ত গাড়ির ভেতর থেকে ওই শিশুকন্যার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে দেখা যায়, দেহের কয়েক কিলোমিটার দূরেই অভিযুক্ত কাকার বাড়ি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয় ওই যুবকের ওপর। সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখতেই ফাঁস হয় কাকার পৈশাচিক কীর্তি।

পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন বাড়িতে ওই শিশুকন্যা একাই ছিল। সেই সুযোগেই ‘খেলব আয়’ বলে তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে যান অভিযুক্ত কাকা। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাট করতে গলা টিপে খুন করা হয়। এরপর অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দেহটি ওই গাড়িতে ফেলে রেখে নিজের বাড়িতে ফিরে যান তিনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিশ্চিত করেছে যে, শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করেই মারা হয়েছে।

জনরোষ ও পুলিশের ভূমিকা: ঘটনা জানাজানি হতেই গাজিয়াবাদে দাবানলের মতো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, ওই অভিযুক্তকে ধরা মাত্রই যেন ‘এনকাউন্টার’ করে সাজা দেওয়া হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত যুবক পলাতক। গাজিয়াবাদ পুলিশের একাধিক টিম চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল এই ঘটনা। গত বছর মধ্যপ্রদেশেও একইরকম জঘন্য অপরাধের খবর মিলেছিল। বারবার কেন ঘরের কাছের মানুষরাই এমন নেকড়ের মতো আচরণ করছে, তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।