বাদামের ওপর আস্ত ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ! ৩৯ মিনিটে বিশ্বরেকর্ড গড়ে বিশ্বকে চমকে দিলেন অটোচালকের ছেলে!

আপনি কি কখনও ভেবেছেন যে একটি সামান্য বাদামের ওপর ফুটে উঠতে পারে পুণ্যভূমি বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ বা উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির? অসম্ভব মনে হলেও ঠিক এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন উজ্জয়িনীর তরুণ শিল্পী গৌরব মাহাওয়ার। মাত্র ৩৯ মিনিটে ১২টি ছোট বাদামের ওপর দেশের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের সূক্ষ্ম প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলে আন্তর্জাতিক রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি।

৩৯ মিনিটের জাদু: উজ্জয়িনীর এক সাধারণ পরিবারের সন্তান গৌরব বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আন্তর্জাতিক রেকর্ড গড়ার জন্য তাঁকে দেড় ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৩৯ মিনিটে তিনি ১২টি বাদামের ওপর অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকার্যের মাধ্যমে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ তৈরি করেন। গৌরবের এই অসাধারণ শিল্পকর্মের নাম দিয়েছেন “সনাতন সংহিতা”

অ্যাক্রিলিক পেইন্ট ও মাইক্রোস্কোপের খেল: গৌরব জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই মাইক্রো আর্ট বা সূক্ষ্ম কারুকার্যের প্রতি তাঁর প্রবল ঝোঁক ছিল। মাত্র ২.৫ সেন্টিমিটার আকারের বাদামগুলোতে নিখুঁতভাবে সোমনাথ, ওমকারেশ্বর ও মহাকালের মতো জ্যোতির্লিঙ্গ ফুটিয়ে তুলতে তিনি অ্যাক্রিলিক পেইন্ট এবং মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করেছেন। তাঁর এই কাজে মুগ্ধ হয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডস’ এবং ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড বুক অফ রেকর্ডস’ তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

অটোচালকের ছেলের বিশ্বজয়: গৌরবের সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। তাঁর বাবা একজন অটো-রিকশা চালক। অভাবের সংসারে সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও নিজের জেদ আর পরিশ্রমকে হাতিয়ার করেছিলেন তিনি। এর আগে অপরাধীদের স্কেচ এঁকে পুলিশকেও সাহায্য করেছেন এই গুণী শিল্পী। বর্তমানে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

উজ্জয়িনীর শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের এই ছাত্র এখন সারা দেশের কাছে এক অনুপ্রেরণা। যাঁরা তাঁর এই ‘বাদাম-শিল্প’ দেখছেন, তাঁরাই বলছেন— ভক্তি আর প্রতিভা মিলেমিশে গেলে এমনই অলৌকিক সৃষ্টি সম্ভব।