দামি শ্যাম্পু মেখেও মুঠো মুঠো চুল উঠছে? শুধু স্ট্রেস নয়, আসল ‘ভিলেন’ লুকিয়ে আপনার ভেতরেই!

বর্তমান সময়ের ইঁদুর দৌড়ের জীবনে আয়নার সামনে দাঁড়ালেই কপালে ভাঁজ পড়ে অধিকাংশের। চিরুনি চালালেই হাতে চলে আসছে একগোছা চুল। আমরা চটজলদি এর দায় চাপিয়ে দিই কাজের চাপ বা মানসিক দুশ্চিন্তার ওপর। এরপর শুরু হয় নামী দামী শ্যাম্পু, সিরাম আর ঘরোয়া টোটকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কিন্তু আপনি কি জানেন, অতিরিক্ত চুল পড়ার পিছনে কেবল মানসিক চাপই একমাত্র খলনায়ক নয়? আপনার শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ছোট কোনো সমস্যাও আপনার চুলের চিরস্থায়ী ক্ষতি করে দিতে পারে।
পুষ্টির অভাব: আপনার খাদ্যতালিকায় গলদ নেই তো? চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। আপনার প্লেটে যদি পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন B12 এবং ভিটামিন D না থাকে, তবে চুল তার জীবনীশক্তি হারাবেই। বিশেষ করে ভারতীয় মহিলাদের ক্ষেত্রে ‘অ্যানিমিয়া’ বা আয়রনের অভাব চুল পড়ার প্রধান কারণ। আয়রন কম থাকলে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না, ফলে গোড়া দুর্বল হয়ে চুল ঝরতে শুরু করে।
হরমোনের কারসাজি: শরীরের ভেতরের হরমোন সরাসরি চুলের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
-
PCOS: নারীদের শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বাড়লে চুল পাতলা হতে শুরু করে।
-
থাইরয়েড: থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়া খুব সাধারণ বিষয়।
-
জীবনচক্র: গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ায় চুলের ঘনত্ব হ্রাস পায়।
রাসায়নিক ও হিট স্টাইলিং-এর খাঁড়া: বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যে ভুলে আমরা চুলে সালফেট ও প্যারাবেনযুক্ত কড়া শ্যাম্পু ব্যবহার করি। ঘন ঘন রিবন্ডিং, স্মুদেনিং বা স্ট্রেটনারের অতিরিক্ত তাপ চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা পুড়িয়ে দেয়। ফলাফল? মাঝখান থেকে চুল ভেঙে যাওয়া এবং আগা ফেটে যাওয়া।
বংশগতি ও মাথার ত্বকের ইনফেকশন: যদি আপনার পরিবারের কারও অল্প বয়সে চুল পড়ার রেকর্ড থাকে, তবে আপনি ‘অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া’-র শিকার হতে পারেন। এছাড়া খুশকি বা মাথার ত্বকে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ (Fungal Infections) থাকলে চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা চুল পড়ার গতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
তাই দামি শ্যাম্পুর পেছনে টাকা খরচ করার আগে খুঁজে দেখুন সমস্যার মূল উৎস। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সুস্থ চুলের রহস্য কেবল বাইরে নয়, ভেতর থেকেও শুরু হয়।