ফেলে দেওয়ার আগে সাবধান! মেয়াদ ফুরানো মেকআপেই লুকিয়ে কোটি টাকার সমাধান?

মেকআপ ছাড়া আধুনিক জীবন প্রায় অচল। ড্রেসিং টেবিলে সাজানো হরেক রকমের লিপস্টিক, আইলাইনার কিংবা ফাউন্ডেশন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। কিন্তু সমস্যা বাধে তখন, যখন শখ করে কেনা দামি প্রোডাক্টগুলোর মেয়াদ হঠাৎই ফুরিয়ে যায়। ত্বকের ক্ষতির ভয়ে আমরা সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিই। কিন্তু জানেন কি, আপনার বাতিল করা সেই মেকআপ সামগ্রীগুলোই ঘরের হাজারো কাজে মুশকিল আসান হতে পারে?

রঙিন ব্লাশ ও পাউডার যখন শিল্পীর তুলি: আপনার প্রিয় ব্লাশ বা কমপ্যাক্ট পাউডারটির মেয়াদ শেষ? ফেলে না দিয়ে সামান্য অলিভ অয়েল ও জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। মুহূর্তেই তৈরি হয়ে যাবে চমৎকার পেন্টিং কালার। বাচ্চাদের আঁকা শেখানোর জন্য এটি যেমন সাশ্রয়ী, তেমনই নিরাপদ বিকল্প। এমনকি স্বচ্ছ নেলপলিশের সঙ্গে এই পাউডার মিশিয়ে আপনি ঘরেই তৈরি করতে পারেন মনের মতো নতুন শেডের নেল এনামেল।

আটকে যাওয়া জিপার ও কাঠের যত্নে লিপস্টিক: লিপস্টিক বা লিপবাম সাধারণত এক থেকে তিন বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রচুর পরিমাণে মোম থাকে, যা লুব্রিকেন্ট হিসেবে দারুণ কাজ করে। ব্যাগের বা প্যান্টের চেইন বা জিপার আটকে গেলে সেখানে সামান্য পুরনো লিপস্টিক ঘষে দিন, দেখবেন ম্যাজিকের মতো কাজ করছে। এছাড়া কাঠের আসবাবে সূক্ষ্ম ফাটল ঢাকতে বা সেলাইয়ের সময় কাপড়ে মার্কিং করতেও এর জুড়ি নেই।

মাস্কারা ব্রাশ: গ্যাজেট পরিষ্কারের ব্রহ্মাস্ত্র: মাস্কারা খুব দ্রুত নষ্ট হয়, কিন্তু এর ব্রাশটি ফেলবেন না। ব্রাশটি ভালো করে ধুয়ে নিয়ে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের কি-বোর্ডের ফাঁক, ফোনের স্পিকার গ্রিল কিংবা ইয়ারবাড পরিষ্কার করতে ব্যবহার করুন। সূক্ষ্ম ধুলো সরাতে এর চেয়ে ভালো টুল আর হয় না।

টোনার ও কন্ডিশনার যখন দামী পলিশ: মেয়াদ ফুরানো টোনার দিয়ে লেদার ব্যাগ, বেল্ট বা জুতো মুছে দেখুন; কোনো দামী পলিশ ছাড়াই নতুনের মতো চকচক করবে। আবার ফেস ক্রিম বা কন্ডিশনার স্টিলের বাসনপত্র, জানলার গ্রিল বা কাঠের ফার্নিচারের জেদি দাগ তুলতে অত্যন্ত কার্যকর।

মেকআপ কিট গুছিয়ে রাখার পাশাপাশি মাঝে মাঝে সেগুলোর এক্সপায়ারি ডেট চেক করা জরুরি। মনে রাখবেন, ফাউন্ডেশন সাধারণত ৬-১২ মাস এবং লিপস্টিক ১-২ বছর ভালো থাকে। তাই সচেতন থাকুন এবং অপচয় রোধে এই ঘরোয়া টিপসগুলো কাজে লাগান।