রাজস্থানে পুলিশের ‘দ্বিমুখী’ চাল! ভিডিও ভাইরাল হতেই ধরপাকড়, কিন্তু গর্ভবতী মহিলার অভিযোগে কেন নীরব জয়পুর পুলিশ?

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে নারী সুরক্ষা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। একদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে বাহবা কুড়াচ্ছে পুলিশ, অন্যদিকে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগে এফআইআর (FIR) না করে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় কাঠগড়ায় খোদ পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের এই ‘দ্বিমুখী’ আচরণ নিয়ে এখন রাজস্থান জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

ঘটনা ১: ভিডিও ভাইরাল হতেই কড়া অ্যাকশন গত ১০ এপ্রিল মুহানা থানা এলাকায় দুই মদ্যপ যুবক বাইক আরোহী এক তরুণীকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি করে। পিছন থেকে কেউ একজন ঘটনার ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ডিসিপি রাজর্ষি রাজ নিজে উদ্যোগী হয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নির্যাতিতা তরুণী অভিযোগ দায়ের করতে রাজি না হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে এবং টঙ্ক জেলা থেকে চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জয়পুরে নিয়ে আসে।

ঘটনা ২: গর্ভবতী মহিলার অভিযোগে পুলিশের চরম অবহেলা ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেল মালভিয়া নগর এলাকায়। গত ২৫ মার্চ এক গর্ভবতী মহিলাকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি করা হয়। ২৬ মার্চ ওই মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ এফআইআর পর্যন্ত নথিভুক্ত করেনি। বরং অভিযুক্ত যুবককে থানায় ডেকে সামান্য জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

কেন এই বৈষম্য? স্পা সেন্টারের ‘মধুচক্র’ ও ঘুষের অভিযোগ: তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ উঠেছে যে, জওহর সার্কেল থানার এসএইচও (SHO) আশুতোষ সিং ওই এলাকার অবৈধ স্পা এবং ম্যাসাজ পার্লারগুলোর থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেন। শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত যুবকটি ওই স্পা মালিকদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সেই প্রভাব খাটিয়ে এবং স্পা মালিকদের সুপারিশেই ওই গুরুতর অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

অ্যাকশনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ: বিষয়টি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে জওহর সার্কেল থানার এএসআই মহেশ মীনা ও হেড কনস্টেবল অঙ্গদ রাম মীনাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এসএইচও আশুতোষ সিংকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (চার্জশিট) দিয়ে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।