কার্বন ডেটিংও হার মেনেছে! সুলতানপুরের এই শিবলিঙ্গের গভীরতা আজও রহস্য, লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস!

উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর জেলা মানেই যেন ইতিহাসের এক খনি। শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে দিখাউলি গ্রাম পঞ্চায়েতে অবস্থিত ‘ধুরি জাত রুদ্র ধাম’ আজ পর্যটক ও ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। হাজার বছরের পুরনো খণ্ডিত মূর্তি আর রহস্যময় এক শিবলিঙ্গকে ঘিরে এখানে জমাট বেঁধেছে বিস্ময়।

বিজ্ঞানের কাছেও অমীমাংসিত রহস্য: এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এখানকার শিবলিঙ্গ। মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক বিপেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, এই শিবলিঙ্গটি কেউ স্থাপন করেনি, এটি স্বয়ংভূ বা মাটি ফুঁড়ে আবির্ভূত। ১১ বছর আগে এর বয়স এবং গভীরতা জানার জন্য কার্বন ডেটিং (Carbon Dating) করা হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আধুনিক বিজ্ঞানও এই শিবলিঙ্গের শেষ সীমা বা সঠিক বয়স নির্ধারণ করতে পারেনি!

আওরঙ্গজেবের আক্রমণ ও ইতিহাসের ক্ষত: স্থানীয় বাসিন্দা ও ইতিহাসপ্রেমীদের মতে, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে সনাতন সংস্কৃতি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এই মন্দিরের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। গ্রামবাসীরা জানান, সেই সময় ভাঙা মূর্তিগুলো পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। আজও সেই পুকুর সংস্কার বা খনন করতে গেলে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে প্রাচীন খোদাই করা খণ্ডিত মূর্তি।

দেবী দুর্গার ১০৪ নম্বর রূপ: পুরোহিত প্রভাকর দাস জি মহারাজের মতে, এই ধামটি দেবী দুর্গার ১০৪ নম্বর নাম ‘পরমেশ্বরী’-র স্থান হিসেবে পরিচিত। মন্দিরের বর্তমান কাঠামোটি ১৯১৪ সালে পুনর্নির্মিত হলেও এর ভেতরের প্রাচীনত্ব আজও অটুট। শুধু দিখাউলি নয়, সুলতানপুরের আইনজার গ্রামের ‘চন্দ্রিকা ধাম’-এও একইভাবে মুঘল আমলের ধ্বংসলীলার চিহ্নবাহী হাজার বছরের পুরনো মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়।

ঐতিহ্যের মিলনমেলা: জাত-পাত ভুলে আইনজার ও দিখাউলি গ্রামের সব বর্ণের মানুষ এই প্রাচীন ধামগুলোতে পূজা দিতে আসেন। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, এখানকার প্রতিটি ভাঙা পাথর এক একটি প্রাচীন সভ্যতার সাক্ষ্য দিচ্ছে, যা হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল।