ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৯১ লক্ষ নাম! ২৩ এপ্রিল কি ভোট দিতে পারবেন তাঁরা? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তোলপাড়

নির্বাচনের ঠিক মুখে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। অ্যাডজুডিকেশন বা তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ায় ভোটারদের অধিকার রক্ষা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো বর্ষীয়ান আইনজীবীরা। কিন্তু সোমবার শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে সেই ৩৪ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারীর ভোটদান নিয়ে তৈরি হল প্রবল অনিশ্চয়তা।
আদালতে কী সওয়াল করলেন আইনজীবীরা?
এদিন শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, “লক্ষ লক্ষ আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে পেন্ডিং। যাঁদের আবেদন গৃহীত হয়েছে, অন্তত তাঁদের এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।” একই সুর শোনা যায় বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের গলাতেও। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
ট্রাইব্যুনাল নিয়ে কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট?
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়:
-
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ সম্পূর্ণ।
-
১৭ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে পোর্টাল পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
-
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকেই এই ট্রাইব্যুনাল কার্যকর বা ফাংশনাল হবে।
-
প্রায় ৯৯.৬৯ শতাংশ অ্যাডজুডিকেশনের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
২৩ এপ্রিলের ভোটে কি অংশ নিতে পারবেন বাদ পড়া ভোটাররা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল প্রথম দফার ভোট নিয়ে। আইনজীবীরা একটি সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের দাবি জানালেও আদালত এখনই তাতে সবুজ সংকেত দেয়নি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি স্পষ্ট জানান, “ট্রাইব্যুনালের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করলে বিচারে প্রভাব পড়বে।”
আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। তার আগে এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা থাকলেও, সুনির্দিষ্ট কোনও তারিখ বা নিশ্চয়তা দেয়নি আদালত। ফলে, ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নাম তালিকায় ফিরে এলেও এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কোনও আশ্বাস মেলেনি।
এক নজরে পরিসংখ্যান:
-
মোট বাদ যাওয়া নাম: প্রায় ৯১ লক্ষ (তিন দফার প্রক্রিয়া মিলিয়ে)।
-
অ্যাডজুডিকেশনে বাদ: প্রায় ২৭ লক্ষ।
-
ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া আবেদন: ৩৪ লক্ষেরও বেশি।