‘জীবন এখানেই শেষ হওয়া উচিত’, কেন মৃত্যু চেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়!

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্র আশা ভোঁসলের প্রয়াণ যেন এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। ৯২ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়াটা এখনও মেনে নিতে পারছেন না অনুরাগীরা। এরই মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে শিল্পীর এক পুরনো ভিডিও, যা দেখে চোখে জল নেটিজেনদের। যেখানে খোদ আশাজিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “জীবন এবার এখানেই শেষ হওয়া উচিত।” কেন এমন চরম কথা বলেছিলেন তিনি?

স্বর্ণমন্দিরে সেই ঐশ্বরিক অনুভূতি:
ঘটনাটি ২০১৮ সালের। ৮৫ বছর বয়সে প্রথমবার অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে গিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। সেখানে গুরু গ্রন্থ সাহেবের সামনে কীর্তন শুনে এক অপার্থিব শান্তি অনুভব করেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শিল্পী বলেছিলেন, “যখন আমি স্বর্ণমন্দিরের ভিতরে গেলাম, তখন মনে হল জীবন এখানেই শেষ হওয়া উচিত। মনে হচ্ছিল, এই মুহূর্তের বাইরে আর কোনও অস্তিত্ব নেই। আমি সোনা-রুপো কিছু চাই না, শুধু এই শান্তিটাই চিরকাল আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলাম।”

হাঁটুর অস্ত্রোপচার ও অলৌকিক শক্তি:
আশাজি জানিয়েছিলেন, হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি অনেক বছর মাটিতে বসতে পারতেন না। কিন্তু স্বর্ণমন্দিরে এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তিনি অনায়াসেই হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করেন। শিল্পী আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন, “আমি জানি না এটা কীভাবে সম্ভব হল। মনে হচ্ছিল কেউ আমাকে বলছে— তুমি করো, তুমি পারবে।” সেখান থেকেই তিনি আমৃত্যু গান গেয়ে যাওয়ার নতুন অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।

শেষ গানেই ছিল ‘মোক্ষ’ লাভের ইঙ্গিত:
আশ্চর্যের বিষয় হল, মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে নিজের শেষ গানের পোস্টে ‘মোক্ষ’ বা পরম মুক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘গরিলাজ’-এর সঙ্গে তাঁর শেষ কাজ ‘দ্য শ্যাডোই লাইট’ মুক্তি পাওয়ার সময় তিনি লিখেছিলেন, জীবননদী পার হয়ে তিনি যখন ওপারে পৌঁছাবেন, তখনই তাঁর যাত্রা পূর্ণতা পাবে। তিনি চেয়েছিলেন প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে সহস্র শব্দের মাঝে একটি সুর হয়ে মিশে যেতে।

আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত মুম্বইয়ের বাসভবনে রাখা থাকবে কিংবদন্তি শিল্পীর দেহ। বিকেল ৪টে নাগাদ শিবাজি পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য। সুরের জাদুকরী না থাকলেও, তাঁর রেখে যাওয়া হাজার হাজার গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকবে।