ভোটার লিস্ট থেকে নাম উধাও? ‘ডি’ ভোটার হওয়া মানেই কি ডিটেনশন ক্যাম্প?

পশ্চিমবঙ্গে ‘SIR’ (Special Investigation Report) প্রক্রিয়া শেষ হতেই শোরগোল। ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে দেখা গিয়েছে, বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই মুহূর্তে যাঁদের নাম ‘ডিলিট’ করা হয়েছে, তাঁদের সামনে খোলা রয়েছে কেবলমাত্র একটিই পথ— ট্রাইব্যুনালে আবেদন। কিন্তু সেখান থেকেও যদি নাম বাদ যায়, তবে কি সেই মানুষগুলোর পরিণতি হবে অসমের মতো? তাঁদের কি ‘ডি-ভোটার’ ঘোষণা করা হবে?
কী এই ‘ডি-ভোটার’ (D-Voter)?
‘ডি’ বা ডাউটফুল ভোটার (Doubtful Voter) বলতে সেই ব্যক্তিদের বোঝায়, যাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে কমিশনের মনে সংশয় রয়েছে। ১৯৯৭ সালে প্রথম অসমে এই নিয়ম চালু হয়। পর্যাপ্ত নাগরিকত্বের প্রমাণ না দিতে পারলে ভোটার তালিকায় নামের পাশে ‘ডি’ লিখে চিহ্নিত করা হয়।
নামের পাশে ‘D’ থাকলে কী কী বিপদ হতে পারে?
একবার কেউ ‘ডি’ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হলে তাঁর নাগরিক জীবন কার্যত অন্ধকারে ঢেকে যায়:
-
ভোটাধিকার বাতিল: আপনি দেশের কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন না, এমনকি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর অধিকারও হারাবেন।
-
NRC থেকে বাদ: জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি-তে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
-
ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্ক: বিদেশি সন্দেহে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল থেকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর নির্দেশ আসতে পারে।
-
আইনি লড়াই: বিদেশি ট্রাইব্যুনালে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে কালঘাম ছুটে যেতে পারে। সেখানে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি বা আপনার পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকে ভারতে বসবাস করছেন।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি
বাংলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কাটা যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা করেনি। তবে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তাতে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে এখনও সরাসরি ‘ডি-ভোটার’ তকমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, কিন্তু আইনি পথে প্রস্তুত থাকা ছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে আর কোনো উপায় নেই।
এডিটরস টিপস: আপনার বা পরিচিত কারো নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ গিয়ে থাকলে দেরি না করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করুন এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে এখনই ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।