‘টিএমসি মানেই তুষ্টিকরণ আর মাফিয়ারাজ’, সোনামুখী থেকে কাঁথি— বাংলায় এসে গর্জে উঠলেন যোগী!

বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে পারদ চড়াতে রবিবার ঝোড়ো সফরে রাজ্যে পা রাখলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সোনামুখী, নন্দকুমার এবং কাঁথি দক্ষিণ— এই তিন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আয়োজিত বিশাল জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং বামেদের বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান গেরুয়া শিবিরের এই পোস্টার বয়। তাঁর সাফ কথা, “তৃণমূল আর বামপন্থী গুন্ডাদের একটাই ওষুধ আছে, আর সেটা হল বিজেপি সরকার।”

‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানকে কটাক্ষ:
তৃণমূলের মূল মন্ত্রকে নিশানা করে যোগী বলেন, “আজ বাংলায় মা-বোনেরা সুরক্ষিত নন, মাটি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে চলে যাচ্ছে আর সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তৃণমূলের জমানায় ‘মা-মাটি-মানুষ’ এখন শুধুই প্রহসন।” তিনি দাবি করেন, বাংলায় টিএমসি মানেই হলো— তুষ্টিকরণ, মাফিয়ারাজ আর কাটমানি। বিজেপি কর্মীদের ওপর হওয়া হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিজেপি কর্মী সুমনকে গুলি করা হয়েছে, সুশোভনের হাত কাটা হয়েছে। এই দাঙ্গাবাজদের জন্য ইউপি-র মতোই কঠোর দাওয়াই দরকার।”

মমতাকে বাংলাদেশের ইস্যু ও হিন্দুত্ব নিয়ে প্রশ্ন:
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হওয়া হিংসা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যোগী। তাঁর অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই মুখ্যমন্ত্রী এই ইস্যুতে চুপ ছিলেন। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সীমান্তে কড়া বেড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ইউপি মডেল বনাম বাংলা মডেল:
যোগীর ভাষণে বারবার উঠে আসে উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলার সাফল্যের কথা। তিনি বলেন, “৯ বছর আগে উত্তরপ্রদেশের অবস্থাও বাংলার মতো ছিল। কিন্তু আজ সেখানে ‘নো কার্ফু, নো দাঙ্গা’। ইউপিতে বুলডোজার যেমন উন্নয়নের কাজ করে, তেমনই মাফিয়াদের দমাতেও ব্যবহৃত হয়।” বাংলার ভেঙে পড়া শিল্প ও বেকারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে লক্ষ লক্ষ চাকরি হচ্ছে, আর বাংলায় একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সবশেষে বাংলার মনীষীদের স্মরণ করে এবং রাম মন্দিরের কথা উল্লেখ করে যোগী আদিত্যনাথ ভোটারদের কাছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আবেদন জানান। তাঁর বিশ্বাস, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের পথে হেঁটে বাংলাকে আবার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেবেন।