“যুদ্ধে ফেরা যাক, বললেন ট্রাম্প”-ইরানে এবার বড়সড় হামলা করার প্ল্যান, জেনেনিন কী সেটি?

শান্তিবাহিনীর সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ। থমকে গেল কূটনৈতিক লড়াই, আর তার বদলে এবার গর্জে উঠতে চলেছে বারুদ। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা দীর্ঘ আলোচনার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল পাকিস্তানের মাটিতে। আর ঠিক তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রণং দেহি মেজাজে ধরা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ‘প্ল্যান বি’: যুদ্ধের সঙ্কেত?

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্লোরিডার ডোরালে নিজের রিসর্টে উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। সেখানেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আলোচনার দিন শেষ। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, কোনো ‘প্রকৃত চুক্তি’ ছাড়া ইরানকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না। সূত্রের খবর, ইরানের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বিমান হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়’ (High Alert) রাখা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ঘেরাওয়ের নির্দেশ

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কার্যত হুঙ্কার ছেড়েছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন:

“বিশ্বের সেরা মার্কিন নৌবাহিনী এখন থেকে হরমুজ প্রণালীতে সব জাহাজের প্রবেশ ও বাহির পথ আটকাবে। অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।”

ট্রাম্পের দাবি, ইরান অতীতে জলপথ খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বারবার লঙ্ঘন করেছে। তাই এবার আর কোনো নমনীয়তা নয়, সরাসরি অবরোধের পথে হাঁটছে হোয়াইট হাউস।

ইসলামাবাদে কী হয়েছিল?

বিগত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পর্দার আড়ালে যে শান্তি প্রক্রিয়া চলছিল, তা এখন সম্পূর্ণ নিষ্ফল। ইরানের কঠিন শর্ত এবং আমেরিকার অনড় অবস্থানের জেরে তৈরি হওয়া ফাটল মেটানো সম্ভব হয়নি। পেন্টাগন ইতিমধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা (Target List) চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে।

অস্থির বিশ্ববাজার, আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্য

এই সামরিক উত্তেজনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালী দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধস নামতে পারে। এখন দেখার, হোয়াইট হাউস থেকে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ঠিক কী আসে। সারা বিশ্বের নজর এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।