“বাজার খুলতেই ১৬০০ পয়েন্ট ক্র্যাশ”-যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিতেই বড় পতন সেনসেক্সের

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ল সাধারণ মানুষের পকেটে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত থামার নাম নেই, উল্টে পাকিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। আর এই যুদ্ধের আঁচ এসে লাগল ভারতের শেয়ার বাজারে। সোমবার বাজার খুলতেই কার্যত ‘ক্র্যাশ’ করল সেনসেক্স ও নিফটি। লাল সঙ্কেতে কাঁপছে দালালি স্ট্রিট।
এক ধাক্কায় ১৬০০ পয়েন্ট নেই!
শুক্রবার সেনসেক্স বন্ধ হয়েছিল ৭৭,৫৫ মো। কিন্তু সোমবার সপ্তাহ শুরুর দিনেই দেখা গেল উল্টো ছবি। বাজার খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেনসেক্স প্রায় ১৬০০ পয়েন্ট নেমে ৭৫,৮৬৮-তে ঠেকেছে। পিছিয়ে নেই নিফটিও। আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫০০ পয়েন্ট পড়ে নিফটি এখন ২৩,৫৮৯-এর ঘরে।
মাটি কামড়ে পড়ে লার্জ-ক্যাপ স্টকগুলো
আজকের বাজারে সবথেকে খারাপ অবস্থা নামী সংস্থাগুলোর। একনজরে দেখে নিন কোন কোন শেয়ারে ধস নেমেছে:
-
ইন্ডিগো: ৪% পতন
-
বাজাজ ফিন্যান্স: ২.৯০% পতন
-
এসবিআই (SBI): ২.৮০% পতন
-
রিলায়েন্স: ২.৭০% পতন
-
এইচডিএফসি (HDFC): ২.৬০% পতন
শুধু বড় কোম্পানি নয়, মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সেক্টরেও বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত। লগ্নিকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকা নিমিষেই কর্পূরের মতো উড়ে গিয়েছে।
কেন এই রক্তক্ষরণ? নেপথ্যে যে কারণ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যেই আমেরিকা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো তেল বা গ্যাসের জাহাজ যেতে দেবে না। এই ঘোষণার পরেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছে।
বিশ্ববাজারের প্রভাবও ভারতের ওপর স্পষ্ট। জাপানের নিক্কেই ৬০০ পয়েন্ট এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং ৪০০ পয়েন্ট নিচে নেমেছে। সেই ঢেউ আছড়ে পড়েছে ভারতীয় সূচকেও।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা
বাজারের এই টালমাটাল অবস্থায় হুজুগে পড়ে শেয়ার কেনা বা বেচা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। হুটহাট বিনিয়োগ না করে অভিজ্ঞ আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, যুদ্ধের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলুন সাবধানে।